দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম করোনার ওষুধ বিক্রি শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়। এতদিন করোনার বিভিন্ন ওষুধের রিকভারি ট্রায়াল চলছিল দেশে। তার মধ্যে দুটি ওষুধ বিক্রিতে সায় দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। জানা গেছে, আর ফার্মের তৈরি করোনাভির ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন ডাক্তাররা। পাশাপাশি জাপানি ওষুধ অ্যাভিফ্যাভির প্রয়োগেও ছাড়পত্র দিয়েছে রাশিয়ার ড্রাগ কন্ট্রোল।
করোনাভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই এই ওষুধ প্রয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছে রাশিয়ার সরকার। আর ফার্ম জানিয়েছে, তৃতীয় পর্যায়ে ১৬৮ জনের উপর এই ওষুধের থেরাপি করা হয়েছিল। তাতে সুফল দেখা গেছে বলেই দাবি।
রাশিয়ায় আরও একটি ওষুধের বিক্রিতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে যার নাম অ্যাভিফ্যাভির। আর ফার্ম জানাচ্ছে, করোনাভির ও অ্যাভিফ্যাভির দুই ওষুধই জাপানি ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি। এই দুই ওষুধের রাসায়নিক ফর্মুলা বদলে করোনা প্রতিরোধী করে তৈরি করেছে রাশিয়ার সংস্থা।
রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তথা আরআইডিএফ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে দেশের হাসপাতালগুলিতে অ্যাভিফ্যাভির ওষুধ প্রয়োগ চলছিল এতদিন। অ্যাভিফ্যাভির ওষুধের নয়া ভার্সন নিয়ে মার্চ মাস থেকেই গবেষণা চালাচ্ছিল আরডিআইএফ। জাপানি ওষুধ ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক ভার্সনই হল অ্যাভিফ্যাভির ও করোনাভির। ফ্যাভিপিরাভির (Favipiravir) বা টি–৭০৫ বানিয়েছে জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল ‘অ্যাভিগান’ । ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে এই ওষুধ তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনের কিছুটা মিল আছে, তাই এই মারণ ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ সারাতেও ফ্যাভিপিরাভির একইভাবে কাজ করবে বলেই দাবি গবেষকদের।
আরডিআইএফ জানিয়েছে, প্যারাজাইকার্বোক্সামাইডের ডেরিভেটিভ হল এই ড্রাগ। এর রাসায়নিক ফর্মুলায় কিছু বদল আনা হয়েছে। এই ওষুধ এখন কোভিড প্রতিরোধী। আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে পারে। রাশিয়ার গবেষকরা বলছেন, ফ্যাভিপারিভিরের নয়া ভার্সন অ্যাভিফ্যাভির করোনাভাইরাসের জেনেটিক মিউটেশনটাকেই বন্ধ করে দেবে। জিনের গঠন বদলাতে না পারলে ভাইরাসের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। মানুষের শরীরে এই ড্রাগের কোনও অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের।