
শেষ আপডেট: 18 July 2020 18:30
গবেষক ঝিজিয়ান টু[/caption]
স্ত্রী মশাদের একটা জিন বদলালেই, বেমালুম তাদের লিঙ্গ বদলে যাবে। এই জিনের খোঁজ পেয়ে গিয়েছেন ভার্জিনিয়া টেকের বিজ্ঞানীরা। জিন-জাদুতে স্ত্রী মশাদের পুরুষ বানিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গেছে। বায়োকেমিস্ট্রির গবেষক ঝিজিয়ান টু বলেছেন, এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা ডেঙ্গি ভাইরাসের বাহক। জিকা ভাইরাসও ছড়ায় তাদের লালার মাধ্যমেই। স্ত্রী এডিস মশাদের একটা নির্দিষ্ট জিনে বদল ঘটালে তারা পুরুষ মশায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর পুরুষ মশারা স্ত্রীদের মতো কামড়াতে আসে না। ভাইরাসও ছড়াতে পারে না।
গবেষক ঝিজিয়ান বলছেন, ‘মেল-ডিটারমাইনিং লোকাস’ (M Locus) জিন পুরুষদের মধ্যে থাকে। অনেকটা মানুষের ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোমের মতো। গবেষক বলছেন নিক্স (Nix)জিন (এক ধরনের মেল-ডিটারমাইনিং লোকাস) স্ত্রী মশাদের পুরুষে রূপান্তরিত করতে পারে। এই পদ্ধতিতে মশাদের লিঙ্গ বদলে দিলে তাদের ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা একেবারেই লোপ পাবে। ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক ঝিজিয়ান টু-এর টিমের সদস্য মাইকেল আন্ডারসন বলেছেন, এই নিক্স-জিনের বদলে মশাদের লিঙ্গ বদলে দেওয়ার পদ্ধতি অনেক আধুনিক এবং বংশপরম্পরায় এই জিনই মশাদের মধ্যে বাহিত হবে। ল্যাবরেটরিতে গত কয়েক বছর ধরে এই প্রক্রিয়ার ট্রায়ালে সাফল্য দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু নিক্স জিন বদলে দিলে স্ত্রী থেকে যে পুরুষ মশা তৈরি হচ্ছে তারা খুব একটা উড়তে পারে না। পুরুষ মশাদের ওড়ার জন্য মায়ো-সেক্স নামে আরও একটা জিনের দরকার হয়। এই জিন যদি রূপান্তরিত মশার শরীরে প্রবেশ না করানো হয় তাহলে তাদের ওড়ার ক্ষমতা প্রায় থাকবে না বললেই চলে।
মাইকেল আন্ডারসন ও আজেদা আরিয়ান
আরও একটি পদ্ধতি হল মশার লালাগ্রন্থিতে ব্যাকটেরিয়ার জিন ভরে দিয়ে মশার প্রজননের ক্ষমতাকে একেবারে নষ্ট করে দেওয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেছিলেন। তাঁরা ওলবাচিয়া বা ওলবাকিয়া নামের এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার জিন স্ত্রী এডিস মশার শরীরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, এই জিন মশার শরীরে থাকলে লালাগ্রন্থিতে ডেঙ্গি-ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা আবার জিনের বদল ঘটিয়েছিলেন অন্যভাবে। তাঁরা পুরুষ এডিস ইজিপ্টাই মশার একটি জিনে পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। দেখা গিয়েছিল, এই জিনের বদল ঘটানো পুরুষ মশারা স্ত্রী এডিসদের সঙ্গে মিলনের পরে ডিম নিষিক্ত হচ্ছে বটে, কিন্তু সেই ডিম ফুটে যে লার্ভা বেরচ্ছে তারা আর পূর্ণতা পাচ্ছে না। জিনের বদলের ফলে মশার বংশবৃদ্ধিই থেমে যাচ্ছে।
জিনের পরিবর্তনে ডেঙ্গি মশাদের জব্দ করার নানা প্রক্রিয়াই প্রয়োগ করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন কৌশলে স্ত্রী থেকে পুরুষের রূপান্তরের প্রক্রিয়া অনেক বেশি কাজে দেবে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের।