দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির তালিকায় নাম আছে দু’জনেরই। করোনা টিকার গবেষণাতেও দুই সংস্থাই এগিয়ে। টিকার ট্রায়াল রিপোর্টেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এ বলেছে টিকা ৯০ শতাংশ কার্যকরী, তো ও বলেছে ৯৪ শতাংশ। হার মানতে রাজি নয় কেউই। টিকার সেফটি ট্রায়াল জমা করে ফটাফট কোটি কোটি টিকার ডোজ বিশ্বের বাজারে নিয়ে আসার প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেছে। মোডার্না ঘোষণা করে দিয়েছে এ বছর শেষেই টিকার ২ কোটি ডোজ আনছে তারা। ফাইজারের ঘোষণা কুড়ি শেষের আগেই টিকার ৫ কোটি ডোজ চলে আসবে।
টিকার ডোজ আনলেই তো হল না, দুটি শটের ভিত্তিতে কী পরিমাণ ডোজ তৈরি হচ্ছে সেটাই আসল কথা। মোডার্না ও ফাইজার দুই সংস্থাই বলেছে, টিকার দুটি করে ডোজও যদি দেওয়া হয় তাহলেও প্রথম ধাপে অন্তত ১ কোটি থেকে আড়াই কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে পারবে দুই সংস্থাই।
এই বছরেই যদি পাঁচ কোটির কাছাকাছি টিকার ডোজ চলে আসে তাহলে আড়াই কোটি মানুষ টিকার দুটি ডোজ পেয়ে যাবেন। ফাইজার জানিয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে ১০০ কোটির বেশি টিকার ডোজ তৈরি করে ফেলবে তারা। পিছিয়ে নেই মোডার্নাও। তাদেরও ঘোষণা, একুশ সালের মাঝামাঝির মধ্যেই টিকার ৫০ কোটি ডোজ চলে আসবে বিশ্বের বাজারে।
মোডার্নার আরএনএ ভ্যাকসিন
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC)বিজ্ঞানীরা। সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজ়া গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিও হয়েছে মোডার্নার।

মোডার্নার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রথম পর্বের রিপোর্ট চলে এসেছে আগেই। সেই রিপোর্টে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, টিকার ডোজে অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের ট্রায়ালের রিপোর্টই সামনে এনেছিল মোডার্না। পরে জানা যায়, ৫৫ বছরের বেশী বয়সীদেরও টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে সম্ভাব্য ফল খতিয়ে দেখছেন ভাইরোলজিস্টরা। ২০ জন প্রবীণকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাদের কোনও ক্রনিক রোগ নেই। তৃতীয় পর্বে ৩০ হাজারের বেশিজনকে টিকা দিয়ে মোডার্না দাবি করে এই টিকা ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকরী হয়েছে। ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে ‘মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ জানিয়েছে, বয়স্কদের শরীরেও টিকার ডোজ ভাল প্রভাব ফেলেছে। সাধারণত দেখা যায়, ৫০ বছরের বেশী বয়সীদের শরীরে টিকার ডোজে তেমনভাবে ইমিউনিটি তৈরি হয় না। কিন্তু মোডার্না ভ্যাকসিনের ডোজে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হচ্ছে বয়স্কদের মধ্যেও।
জার্মান বায়োএনটেকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে টিকা বানিয়েছে ফাইজার
জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। এই আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম
BNT162। গত মে মাস থেকেই টিকার ট্রায়াল শুরু করেছিল ফাইজার ও বায়োএনটেক। প্রথম দুই পর্বে অল্প সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের উপর টিকার ডোজও কার্যকরী হয়েছিল বলে দাবি করেছিল ফাইজার। তৃতীয় পর্বে প্রায় ৩০ হাজার জনকে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। ট্রায়াল রিপোর্টে বলা হয়, টিকার ডোজে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবকের শরীরের ইমিউন পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জেগে উঠেছে। বি-কোষ থেকে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে রক্তে যা অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে। একই সঙ্গে সক্রিয় টি-কোষও। এই টি-কোষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বাড়াবে এবং দীর্ঘ সময় ধরেই ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে শরীরে। টিকার ডোজে কোনও জটিল শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনের ডোজের জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে ১৯৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এমার্জেন্সি ইউজ অথরাইজেশন (ইইউএ)-এর অনুমতি পেলে ডিসেম্বর থেকেই টিকার ডোজ দেওয়া শুরু হতে পারে।