দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় ফাইজার এবং মোডার্নার টিকার মধ্যেই এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এ বলছে আমার টিকা ৯৪ শতাংশ সফল, তো ও বলছে ৯৫ শতাংশ। গত কয়েকদিনে টিকার ট্রায়ালের আরও কিচু রিপোর্ট সামনে এনেছে মোডার্না। যেমন বলা হয়েছে আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রেও টিকা ১০০ শতাংশ কার্যকরী। বয়স্কদের শরীরে তো আগেই টিকার সাফল্য প্রমাণিত। এবার টিকার ডোজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বাড়ছে সে নিয়ে নতুন তথ্য দিল এই মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট।
টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এত কথাবার্তা চলছে কিন্তু আমজনতার প্রশ্ন হল টিকার ডোজ ভাইরাস থেকে কতদিন সুরক্ষা দেবে। কতটা বাড়বে ইমিউন পাওয়ার! মোডার্না জানিয়েছে, টিকার ডোজ দেওয়ার পরে ৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তা টিকে থাকছে কম করেও তিন মাস। তবে মোডার্না জানিয়েছে, অ্যান্টিবডি এর চেয়েও বেশি দিন টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা আরও কয়েকজনের উপর পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC) বিজ্ঞানীরা। মোডার্নার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রথম পর্বের রিপোর্ট চলে এসেছে আগেই। সেই রিপোর্টে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, টিকার ডোজে অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের ট্রায়ালের রিপোর্টই সামনে এনেছিল মোডার্না। পরে জানা যায়, ৫৫ বছরের বেশী বয়সীদেরও টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে সম্ভাব্য ফল খতিয়ে দেখেছেন ভাইরোলজিস্টরা। ২০ জন প্রবীণকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাদের কোনও ক্রনিক রোগ নেই। সেখানেও সাফল্যের দাবি করা হয়েছে। তৃতীয় পর্বে ৩০ হাজারের বেশিজনকে টিকা দিয়ে মোডার্না দাবি করেছে এই টিকা ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকরী হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে তার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কতদিন টিকবে সে নিয়ে মতামত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুরুতে শোনা যাচ্ছিল, ভাইরাস হানা দেওয়ার পরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি স্থায়ী হবে না। বরং আরও কম দিনেই ঝপ করে অ্যান্টিবডির পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। পরে নতুন গবেষণায় জানা যায়, তিন মাস নয় বরং করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি থাকবে আরও বেশিদিন। ইমিউন সিস্টেম এত সহজে দুর্বল হবে না। সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে তার স্থায়িত্ব পাঁচ থেকে সাত মাস। যদি রোগীর শরীরে কোনও ক্রনিক রোগ বা জটিল সংক্রমণজনিত রোগ না থাকে তাহলে এই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব আরও বাড়বে। এখন করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে অ্যান্টিবডি কতদিন স্থায়ী হবে সেটাই দেখার।