দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাস্ট্রজেনেকার ১০ কোটি টিকার ডোজ বুক করে রেখেছে ব্রিটেন সরকার। পাশাপাশি মোডার্নার টিকাও কিনতে চলেছে ব্রিটেন। মোডার্না টিকার সাফল্য ঘোষণার পরেই ৫০ লাখ ডোজের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে দিয়েছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যেই মোডার্নার টিকা চলে আসবে দেশে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ লাখ ডোজের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এর আগে ফাইজারের টিকার জন্য চুক্তি করেছিল ব্রিটেন সরকার। হ্যানকক বলেছেন, ফাইজারের টিকার ৩৫ লাখ ডোজের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। আরও ৬টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টিকাও কিনবে ব্রিটেন।
এদিকে অক্সফোর্ডের টিকাও ব্রিটেন সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের প্রথম দুই পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট আশা জাগিয়েছে বিশ্ববাসীর মনে। তরুণরা শুধু নয়, প্রবীণদের শরীরেও করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে অক্সফোর্ডের ডিএনএ ভ্যাকসিন। চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্টই শুধু সামনে আসা বাকি। সে রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে সবকিছু। তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ডেটা থেকেই ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দেবে ব্রিটেনের রেগুলেটরি কমিটি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন গ্রুপের ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেছেন, বছর শেষের আগেই চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে আনবে অক্সফোর্ড। সেই রিপোর্টও হবে ইতিবাচক।
অক্সফোর্ডের মতোই টিকার দৌড়ে এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোডার্না ও ফাইজার। মোডার্না ইতিমধ্যেই দাবি করেছে তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। কমবয়সী শুধু নয়, বয়স্কদের শরীরেও টিকার ডোজের প্রভাব ভাল। এরপরেই মোডার্নার টিকা আগেভাগে বুক করার রাখার ধুম পড়ে গেছে বিশ্বজুড়েই।
অন্যদিকে, অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার জন্যও আবেদন করে রেখেছে মার্কিন সরকার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন অ্যাস্ট্রজেনেকা যে পরিমাণ টিকার ডোজ তৈরি করবে তার পুরোটাই নাকি কিনে নেবে আমেরিকা। অ্যাস্ট্রজেনেকার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ কেনার জন্য কথাবার্তা চলছে আমেরিকার সঙ্গে। তাঁর দাবি, আমেরিকার রেগুলেটর কমিটি যদি আগে টিকার ডোজ বুক করে দেয় তাহলে আমেরিকাকে তা দিতে তারা বাধ্য। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে, ব্রিটেনের আগেই অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ চলে যাবে আমেরিকায়।