
শেষ আপডেট: 15 October 2019 18:30
উড থ্রাশ[/caption]
পরিবেশবিদ ও পক্ষীপ্রেমিকদের কাছে একমাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দুঃসংবাদ। কারণ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একটি সম্মিলিত সমীক্ষা চালিয়ে পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা যে তথ্য পেয়েছেন তার থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, গোটা পরিবেশের ভারসাম্য ইতিমধ্যেই ভয়ঙ্কর ভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তার ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পক্ষীকূলই। ১৯৭০ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত শুধু এই দু'দেশে ৩০০ কোটি পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রতি চারটি পাখির মধ্যে একটি পাখির বিলোপ ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে সাবধানবাণী শুনিয়েছেন 'অডুবন সোসাইটি'র পরিবেশ বিজ্ঞানী ব্রুক ব্যাটম্যান, ''পাখি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রজাতি (indicator species), একটি বাস্তুতন্ত্র (ecosystem) যদি পাখিদের পক্ষে প্রতিকূল হয়ে ওঠে তাহলে সেই পরিবেশ খুব দ্রুত মানুষের পক্ষেও প্রতিকূল হয়ে উঠবে।''
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে আরও ধরা পড়েছে যে পৃথিবীর উষ্ণতা যদি আর তিন ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় তাহলে উত্তর আমেরিকার ৬৪ শতাংশ প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে চলে যাবে। প্যারিস চুক্তি অনুসারে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রির মধ্যে বেঁধে রাখা গেলে সেই বিলুপ্তির শতকরা হিসেব কমে দাঁড়াবে চল্লিশে। এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ উক্তিটি করেছেন 'অডুবন সোসাইটি'র প্রধানসচিব ডেভিড ইয়ারনল্ড। একটি বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক ভাবে প্রকাশিত রিপোর্টটি পরিবেশ সচেতন মানুষকে হতাশ করলেও আশার কথা হল পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তাহলে এই গ্রহের ৭৬ শতাংশ প্রজাতিই রক্ষা পাবে। সুতরাং যে বাস্তুতন্ত্রে আমরা পাখিদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বাস করি সেই পরিবেশের দিক থেকে বিচার করলে বর্তমান সময়কে পাখিদের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
[caption id="attachment_150911" align="aligncenter" width="474"]
চড়াই[/caption]
ভারতেও হারিয়ে গেছে বহু প্রজাতির পাখি, সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে অজস্র প্রজাতি। মোবাইল টাওয়ারের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে চড়াই পাখি – এমন একটি বিষয় নিয়ে কয়েক দিন আগে বেশ শোরগোল পড়েছিল। যদিও সেই কারণে মোবাইল ব্যবহার কিছুমাত্র কমেনি। কমেনি মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যাও। চড়াই পাখিরাও চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে ধীরে ধীরে। সচেতনতার অভাবে শকুনও আজ বিলুপ্তির পথে। যত দিন যাচ্ছে ততই এই সত্য স্পষ্ট হচ্ছে যে, পৃথিবী কেবলমাত্র মানুষের বাসযোগ্য করে রাখা যাবে না আর। এই গ্রহ যতটা মানুষের ঠিক ততটাই শালিখ, জোনাকি বা হিজল বট অশ্বত্থের।
পড়ুন 'দ্য ওয়াল' পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত বিশেষ রচনা
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a6%b9%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d/