‘সোলেমানি হত্যার নির্দেশ দিয়ে ন্যায় করেছি, নোবেল পাওয়া উচিত,’ ডেমোক্র্যাটদের বললেন ট্রাম্প
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের কুদস বাহিনী। মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করেছে, আমেরিকার সম্পত্তিও নষ্ট করেছে। ওই ‘জঙ্গি বাহিনীর’ কম্যান্ডারকে হত্যার নির্দেশ সঠিক সিদ্ধান্ত, মার্কিন বাসিন্
শেষ আপডেট: 9 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের কুদস বাহিনী। মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করেছে, আমেরিকার সম্পত্তিও নষ্ট করেছে। ওই ‘জঙ্গি বাহিনীর’ কম্যান্ডারকে হত্যার নির্দেশ সঠিক সিদ্ধান্ত, মার্কিন বাসিন্দাদের জন্য ন্যায়, শুক্রবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোলেমানি হত্যার সাফল্যের জন্য তাঁর নোবেল পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা কাসেম সোলেমানির হত্যার পরেই টুইট করে লাগাতার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কখনও তিনি বলেছেন ইরান প্রত্যাঘাতের চেষ্টা করলে ফল মারাত্মক হবে, আবার কখনও সম্মুখ সমরের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন ইরানের আরও ৫২টি জায়গায় হামলা চালাবার ছক কষেছে আমেরিকা। ওই জায়গাগুলো ইরানের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি দেওয়ায় ট্রাম্পের উপর বেজায় চটেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। দেশের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা ২০২০-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্র্রাথী জো বাইডেন এবং ম্যাসাচুসেটস-এর সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সরাসরি ট্রাম্পকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবিবেচক বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এদিন হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য অ্যাডাম স্কিফকে ট্রাম্প বলেন, “ইরান মারলেই দোষ, আর আমরা ওদের ছুঁতেও পারব না। আমেরিকার জন্য সঠিক বিচার হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমার নোবেল পাওয়া উচিত।”
মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকদের না জানিয়ে, তাঁদের সম্মতি ছাড়া দেশকে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার নেই কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের। টুইটারে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য করে তিনি যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছেন। ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া থেকে নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প দেশকে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিয়োগ ওঠে। হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি-সহ ডেমোক্র্যাট নেতারা ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন ট্রাম্প, যেটা ঠিক নয়। আমেরিকা যুদ্ধ চায় না। ম্যাসাচুসেটস-এর সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের দাবি ছিল, ইরানের সাংস্কৃতি জায়গায় হামলার চালিয়ে নাগরিকদের হত্যার নির্দেশ যুদ্ধপরাধেরই সামিল। ডেমোক্র্যাটদের এইসব দাবিকে উড়িয়ে ট্রাম্প এদিন বলেন, “আমরা খবর পেলাম জঙ্গি নেতা সোলেমানি কোথায় আছে। সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিতে বলি। এত অনুমতি নেওয়ার সময় কোথায়! আর যাঁরা আপত্তি তুলছেন, তাঁরা জেনেবুঝেই সংবাদমাধ্যমে ভুল খবর ছড়াচ্ছেন।”

কাসেম সোলেমানি হত্যার পরে তেহরান-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। হুমকি-পাল্টা হুমকি চলছেই। তারই মধ্যে একের পর এক কঠোর প্রত্যাঘাত চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরাকের মার্কিন সেনা ও যৌথবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরপর মিসাইল হামলার পরদিনই বাগদাদের গ্রিন জোনে রকেট হামলা চালায় ইরান।