দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেন-স্ট্রেন তথা করোনার নতুন স্ট্রেন নিয়ে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশে, তাতে কোভিড ভ্যাকসিন কবে আসবে সে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। টিকাকরণে দেরি হলে ভাইরাসের সুপার-স্প্রেডার স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)-এর ডিরেক্টর ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, টিকা আসতে আর বেশি দেরি নেই। কিছুদিনের মধ্যেই সেরামের টিকার বিতরণ শুরু হয়ে যাবে।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় ছাড় দিয়ে খুব বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটেন, বলেছেন এইমনস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়াল হয়েছে বিশ্বের নানা দেশে। ভারতে এই টিকারই ফর্মুলায় কোভিশিল্ড তৈরি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। ব্রিটেনের ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় ছাড় দেওয়া মানে ভারতে তো বটেই বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও এই টিকার বিতরণ শুরু হয়ে যাবে।
গুলেরিয়া বলেছেন, সেরাম এখনই টিকার চার থেকে পাঁচ কোটি ডোজ তৈরি রেখেছে। আগামী বছর মার্চের মধ্যে টিকার দশ কোটি ডোজ চলে আসবে দেশে। এই টিকা সংরক্ষণ করা যাবে কোল্ড-স্টোরেজের স্বাভাবিক ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেই। তাই টিকা সরবরাহ করতেও কোনও সমস্যা হবে না।
এইমসের ডিরেক্টর ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া কেন্দ্রের ভ্যাকসিন টাস্ক ফোর্সেরও সদস্য। তিনি বলেছেন, সেরামের টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রেগুলেটরি কমিটি যে মুহূর্তে সবুজ সঙ্কেত দেবে, টিকার বন্টন শুরু হয়ে যাবে দেশে। অপেক্ষা আর কিছুদিনের। এইমন প্রধান বলেছেন, টিকাকরণ একবার শুরু হয়ে গেলে ভাইরাসের দাপট কমতে থাকবে। ইমিউন পাওয়ার তৈরি হতে শুরু করবে মানুষের শরীরে। সমাজের একটা বড় অংশ টিকার ডোজ পেলে হার্ড ইমিউনিটিও তৈরি হতে শুরু করবে। ফলে ভাইরাস বেশিজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না।
প্রথমবার টিকাকরণের পরে ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে কম করেও ৯ মাস, এমনটাই দাবি গুলেরিয়ার। তিনি জানান, শুরুতে দেখা গিয়েছিল শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি টিকছে না। কারও ক্ষেত্রে আরও কম। এখন দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব প্রায় সাত মাস। কাজেই ভাইরাসের সঙ্গে লড়ার মতো শক্তি তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই আশা করাই যাচ্ছে, টিকার ডোজের প্রভাব এক বছরের কাছাকাছি টিকে থাকতে পারে।