.webp)
শেষ আপডেট: 17 February 2024 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: যে ভ্যানে স্কুলে যেত ছেলে সেই ভ্যানে একজন সিনিয়রের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। মারামারিও হয়। তখন বিষয়টাকে ছোটদের ঝগড়া ভাবলেও এখন সেটা নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন ছোট্ট শিশুর বাবা পঙ্কজ শর্মা। আসলে চোখের জলে ভেসে কী কারণে তাঁর আট বছরের ছেলেটাকে এমন নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারা হল তার কারণ হাতরাচ্ছেন তিনি। পুলিশও এখনও ধন্দে। বারবার পুলিশ কর্তারা কোন্নগরের আদর্শনগরে ওই বাড়িতে গিয়ে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। কথা বলছেন বাড়ির লোক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি শনিবার ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, "একটা আট বছরের শিশুর উপর হামলা হয়েছে। যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে তা অবিশ্বাস্য । শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ফরেনসিক তদন্ত হবে। যে ঘরে ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘরটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।"
কোন্নগরের আদর্শনগরে শুক্রবার ঘরের মধ্যে থেকে রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় আট বছরের ওই শিশুর। ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ গোটা এলাকা। পঙ্কজ শর্মা জানান, ইট দিয়ে, ঘরে থাকা গণেশের মূর্তি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। ফল কাটার ছুরি দিয়েও আঘাত করা হয়। টেবিলে মাথা থেতলে খুন করা হয়। যে সময় এই কাণ্ড ঘটে সেই সময় বাড়িতে আর কেউ ছিল না। পঙ্কজ কলকাতায় বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন, তাঁর স্ত্রী কোন্নগরে একটি ফুড ক্যাফেতে কাজ করেন। দুজনেরই ফিরতে রাত হয়।
তিনি বলেন, "বাড়িতে পোষ্য কুকুর রয়েছে। সব সময় চেঁচায়। গতকালও চেঁচিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেশীরা অস্বাভাবিক কিছু ভাবেননি। জানতে পেরেছি ঘরে ফুল ভলিউমে টিভি চলছিল।" পাশের বাড়িতেই থাকেন পঙ্কজবাবুর ভাই। তাঁর মেয়েই প্রথম ক্লাস ফোরের ওই পড়ুয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে৷ তার চিৎকার শুনেই ছুটে আসে আশেপাশের মানুষ। খুনের মোটিফ নিয়ে এখনও ধন্দে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা।