Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘সবচেয়ে অসুখী বোধ করছিলাম, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায় পুকুর চুরির মতো ব্যাপার ঘটছিল বলে’প্রকাশিত সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলাফল! পাশের হারে ছেলেদের টেক্কা মেয়েদের, শীর্ষে কোন শহর? নববর্ষে পারিবারিক সেলিব্রেশন, তার মাঝেই ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির প্রার্থনা অপরাজিতারনববর্ষে রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তনের’ ডাক! ‘লাটসাহেব’কে নিয়ে ছেড়ে কথা বললেন না মমতাওস্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প'দেশু ৭'-এ অনির্বাণ, এবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’য় কোন নায়কের এন্ট্রিতে চমক?এখনই সুরাহা নেই, রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর! দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার: সূত্রলোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও

করোনার পরে হান্টাভাইরাসের হানায় মৃত্যু চিনে, ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, এই জীবাণুও প্রাণঘাতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড় থামছে না। বহু বছর আগে যে সংক্রমণের প্রভাব হারিয়ে গিয়েছিল, ফের একবার মাথা চড়া দিয়েছে সে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ সামলাতে নাস্তনাবুদ হতে হচ্ছে বিশ্বকে। সার্স-কোভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে রোখার ভ্যাকসিন বা ড্রাগ এখনও সেইভাবে সামনে

করোনার পরে হান্টাভাইরাসের হানায় মৃত্যু চিনে, ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, এই জীবাণুও প্রাণঘাতী

শেষ আপডেট: 23 March 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড় থামছে না। বহু বছর আগে যে সংক্রমণের প্রভাব হারিয়ে গিয়েছিল, ফের একবার মাথা চড়া দিয়েছে সে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ সামলাতে নাস্তনাবুদ হতে হচ্ছে বিশ্বকে। সার্স-কোভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে রোখার ভ্যাকসিন বা ড্রাগ এখনও সেইভাবে সামনে আনতে পারেননি বিজ্ঞানী-গবেষকরা। মৃত্যু বেড়েই চলেছে। আতঙ্কের এই পরিবেশে এবার হানা দিল আরও এক প্রাণঘাতী ভাইরাস। এর নাম হান্টাভাইরাস বা অর্থোহান্টাভাইরাস (orthohantavirus ) । এই ভাইরাসের উৎসও সেই চিন। চিনের গ্লোবাল টাইমস টুইট করে জানিয়েছে, উনান প্রদেশে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। উনান থেকে শানডঙ প্রদেশে যাচ্ছিলেন তিনি। যে বাসে ওই ব্যক্তি ছিলেন, সেই বাসের আরও ৩২ জনের মধ্যে এই মারণ ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে।

কী এই হান্টাভাইরাস?

  অর্থোহান্টাভাইরাস বা হান্টাভাইরাসও সার্স-কভ-২ এর মতো সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড, নেগেটিভ-সেন্স আরএনএ ভাইরাস (RNA Virus)হান্টাভিরিডি গোত্রের (Hantaviridae) এই ভাইরাসের উৎস বা রিজার্ভর (Reservoir)হল ইঁদুর, কাঠবিড়ালি এই জাতীয় প্রাণী। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, হান্টাভাইরাসও প্রাণঘাতী এক ভাইরাস পরিবারের সদস্য। ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে এরা ছড়ায়, অথচ ইঁদুরের শরীরে সংক্রমণ বাসা বাঁধে না। এই মারণ ভাইরাসের বাহক হল ইঁদুর জাতীয় প্রাণীরা, সেখান থেকে মানুষের শরীরেও বাসা বাঁধে তারা। হান্টাভাইরাসের নাম এসেছে হান্টান নদী থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় একসময় মহামারী হয়েছিল এই ভাইরাসের সংক্রমণ। তবে সেই মহামারী কাটিয়ে উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন তাদের খাদ্যাভাস থেকেই ছড়ায় ওই সংক্রমণ। এবার সেই সংক্রমণ দেখা দিয়েছে চিনে।

হান্টাভাইরাসের ১২টি পরিবার, কীভাবে ছড়ায় সংক্রমণ

  করোনাভাইরাসের থেকেও হান্টার পরিবার বড়। নেগেটিভ-সেন্স আরএনএ ভাইরাসের কোপে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৮ শতাংশ। তবে ভাইরাল স্ট্রেন যদি করোনার মতো জিনের গঠন বদলে ফেলে তাহলে সংক্রমণ আরও বড় মহামারী হয়ে দেখা দেবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস এয়ার ড্রপলেটে ছড়ায় না। মূলত ইঁদুরের মল-মূত্র, তাদের দেহাবশেষ বা শরীরে কোনও অঙ্গ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। মানুষ যদি ইঁদুরের মাংস খায়, বা তার মলমূত্রের সংস্পর্শে যায়, আর সেই ইঁদুর যদি হান্টাভাইরাসের বাহক হয় তাহলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে মানুষের মধ্যে। করোনার মতো এই ভাইরাসেরও আয়তন ১২০-১৬০ ন্যানোমিটার। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই হান্টাভাইরাসের বিবর্তন দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালে। প্রয়োজনে এই ভাইরাসও রূপ বদলাতে পারে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল এই ভাইরাসকে রোখার ভ্যাকসিনও তেমনভাবে নেই। হান্টাভ্যাক্স নামে একটি ভ্যাকসিন ১৯৯০ সাল থেকে ট্রায়ালে ছিল। স্টেজ-৩ ট্রায়ালের পরে আর এই ভ্যাকসিনের কথা জানা যায়নি। ভাইরাসের সংক্রমণও থেমে গিয়েছিল। মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিন্ড্রোম (HFRS)—এই ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণঘাতী হতে পারে এই রোগ। উপসর্গ অনেকটা কোভিড-১৯ এর মতোই। একে কোরিয়ান হেমারেজিক ফিভারও বলে। সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা, শ্বাসকষ্ট, তলপেটে ব্যথা, শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকা, এবং শেষে অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু। বিজ্ঞানীরা বলছেন এখনও মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ সেভাবে মেলেনি, তবে সম্ভাবনা প্রবল। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ ধরা পড়ে। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম (Hantavirus Pulmonary Syndrome)- উচ্চতাপমাত্রা, মাথা যন্ত্রণা, শ্বাসের সমস্যা, সর্দি-কাশি এবং সারা শরীরে ব্যথা এর উপসর্গ। এই সিন্ড্রোম প্রাণঘাতী নয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

```