
শেষ আপডেট: 10 October 2023 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের রায়ে সোমবারই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কামদুনি গণ ধর্ষণ কাণ্ডের চার অভিযুক্ত। তার পর থেকেই নতুন করে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে কামদুনি। রায়ের প্রতিবাদে এদিন কলকাতার রাজপথে মিছিল করেন কামদুনি গণ ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদীরা। নেতৃত্বে ছিলেন টুম্পা কয়াল, মৌসুমী কয়ালরা। অন্যদিকে এদিনই রাজারহাট থেকে কামদুনি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিল করছে বিজেপির মহিলা মোর্চা। নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর অভিযোগ, “ধর্ষকদের বাড়ির সামনে পুলিশ পোস্টিং বসানো হয়েছে। যাতে ওরা সুরক্ষিত থাকে! এতেই প্রমাণিত হল, তৃণমূলের সরকার অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়।”
২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় গত শুক্রবার রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নিম্ন আদালতে যাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা রদ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যেসব অভিযুক্তদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল নগর দায়রা আদালত, তাদের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালতে গিয়েছে রাজ্য। যদিও এদিন শুভেন্দুর দাবি, “লোক দেখানো নাটকের জন্যই রাজ্য শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। ওদের ওপর ভরসা করলে ফের ঠকতে হবে।”
শীর্ষ আদালতে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সোমবার সন্ধেয় শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন কামদুনির টুম্পা, মৌসুমীরা। এদিন শুভেন্দু বলেন, “আইনিভাবে আমরা ওদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
তবে কামদুনির প্রতিবাদীরা চান না তাঁদের আন্দোলনে রাজনীতির রং লাগুক। সেকারণেই শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন মিছিল না হেঁটে এদিন কলকাতায় প্রতিবাদী মিছিল করেন তাঁরা। টুম্পা, মৌসুমীরা বলেন, “নিম্ন আদালতের সব তথ্য উচ্চ আদালতে হাজির করা হয়নি। সেকারণেই অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গেছেন। তা বলে ধর্ষকরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, এটা মেনে নেব না। আইনি পথেই আমরা কামুদুনির নির্যাতিতার বিচার চাইব শীর্ষ আদালতে।”