দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাপুর, লখিমপুরের পরে এবার গোরক্ষপুর। ফের ধর্ষিতা হতে হল এক নাবালিকাকে। নৃশংস নির্যাতনের সাক্ষী থাকল যোগীরাজ্য।
ইটভাটার পাশ থেকে মেয়েটিকে যখন উদ্ধার করা হয় তার সারা শরীরে রক্তে মাখামাখি। চামড়া পুড়ে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে। রক্ত জমে সারা শরীরে কালশিটের দাগ। নাবালিকাকে এমন অবস্থায় অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকতে দেখে শিউরে ওঠেন পুলিশ কর্তারাও। সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। ধর্ষণের অভিযোগে দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনা গোরক্ষপুরের। নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকেই নিখেোঁজ ছিল মেয়েটি। বাড়ির সামনের কল থেকে জল ভরতে গিয়েছিল। আর ফিরে আসেনি। সারা গ্রাম খুঁজেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়রি করে পরিবার। পুলিশ অফিসার বিপুল শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ গ্রামের বাইরে একটি ইটভাটার কাছ থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
গোরক্ষপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে নাবালিকার। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মেয়েটির উপর নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে। মারধরের চিহ্নও রয়েছে। ধর্ষণের পরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে সারা শরীর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দগদগে ঘা হয়ে গেছে চামড়ায়। মেয়েটির অবস্থা সঙ্কটজনক।
“জ্ঞান ফিরতেই মেয়ে বলেছে বাড়ির সামনে থেকে দু’জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত তাকে মারধর করে, নির্যাতন চালায়। সে কান্নাকাটি করলে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। তারপর সিগারেটের ছ্যাঁকা দিতে থাকে সারা শরীরে,” বলেছেন নির্যাতিতার বাবা।
পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকা ও তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাকড়াও করা হয়েছে দু’জনকে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের একজনের নাম অর্জুন। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। নির্যাতিতা মেয়েটির পরিবার এর নামেই অভিযোগ দায়ের করেছে। অর্জুনকে জেরা করে ছোটু নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দু’জনকেই আদালতে তোলা হবে।
একের পর এক নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে উত্তরপ্রদেশ। গত শনিবারই লখিমপুর জেলায় ১৩ বছরের একট মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে খবর মেলে। পুলিশ জানায়, মেয়েটির উপরে নারকীয় নির্যাতন চালায় অপরাধীরা। ধর্ষণের পরে গলায় ফাঁস দিয়ে মেয়েটিকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তার আগে কিশোরীর চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছিল, জিভ কেটে নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে হাপুর জেলায় বছর ছয়েকের একটি মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তিনজন। ওই শিশুটির অবস্থাও সঙ্কটজনক। মেরঠের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন। হাপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম দলপত। ঘটনার এক সপ্তাহ পরে এই দলপত পুলিশের নাগালে আসে। তার আগে অভিযুক্তের স্কেচ প্রকাশ্যে এনে তল্লাশি শুরু করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। দলপতের ছবি সামনে এনে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দলপত ধরা পড়ার পরে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। পাল্টা তার পায়ে গুলি করে পুলিশ। দলপতকে জেরা করে বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।