
শেষ আপডেট: 23 April 2023 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেবাঞ্জন দেবের কথা মনে আছে? ভোলার কথাও নয়। করোনাপর্বের সময় হঠাৎ করে এই নামটা শোনা গিয়েছিল। রাজ্যবাসী তাকে চিনেছিল 'ভুয়ো' আইএএস অফিসার (Fake IAS Officer) বলে। আইএএস অফিসার পরিচয়ে ভুয়ো ভ্যাকসিনের ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন। প্রায় দু'বছর পর ফের এক ভুয়ো আইএএস অফিসারের খোঁজ মিলল খাস কলকাতায়!
রবিবার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শান্তকুমার মিত্র। বেলেঘাটার বাসিন্দা এই শান্তকুমারকে এলাকার সবাই চেনেন আইএএস অফিসার হিসেবেই। সম্মানও করতেন খুব। করবেন নাই বা কেন, মিত্রবাবু যে গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন তাতে 'নবান্ন', 'রাজভবন', 'রাইটার্স বিল্ডিং', এমনকী কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশেরও স্টিকার লাগানো। বলতেন, তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে কাজ করেন!
সেই শান্তকুমারের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ, সরকারি ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলতেন তিনি। শুধু তাই নয়, বার কিংবা রেস্তোরাঁর লাইসেন্স করিয়ে দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিতেন, হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা! সেই শান্তকুমারকে এদিন কড়েয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বটতলা থানার পুলিশ।
২০২২ সালে বটতলা থানায় শান্তকুমারের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মঞ্জু ঘোষ নামে এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজারহাট এলাকায় ‘ভিভিআইপি’ কোটায় কম টাকায় দু’টি সরকারি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন শান্তকুমার। এর জন্য মঞ্জুদেবীর থেকে ১১ লাখের থেকেও বেশি টাকা নেন। কিন্তু তারপর থেকেই বেপাত্তা শান্তকুমার। কোথাও ফ্ল্যাট, টাকা চাইলে ফেরতের নাম নিতেন না।
মঞ্জুদেবীর অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে বটতলা থানার পুলিশ। কিন্তু সহজে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না শান্তকুমারের। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে জানতে পেরেই এক হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁকে। সূত্রের খবর, কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে তাঁর থেকে।
সিবিআই অফিসাররা ফতুয়া-পাজামা কিনলেন, জীবনের বাড়িতে পেরিয়ে গেল ৫৮ ঘণ্টা