দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারী প্রতিরোধ নিয়ে বেশ কয়েকবার দিল্লি সরকারের সঙ্গে বিরোধ হয়েছে কেন্দ্রের। কিন্তু শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডি করোনা ঠেকাতে দিল্লি মডেলেরই প্রশংসা করলেন। তিনি বলেছেন, সব রাজ্যেরই ওই মডেল অনুসরণ করা উচিত।
এদিন হায়দরাবাদে তেলঙ্গানা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চের এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সকলেই জানেন, কেন্দ্রশাসিত দিল্লির করোনা পরিস্থিতির ওপরে আমি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখি। এখানে সেরে ওঠার হার ৮৪ শতাংশ। প্রত্যেক রাজ্যেরই দিল্লি মডেল অনুসরণ করা উচিত।" সারা দেশে করোনা থেকে সেরে ওঠার হার ৬৪.৫২ শতাংশ। দিল্লিতে সেই হার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
করোনা মোকাবিলা নিয়ে শুক্রবারই দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজালের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছে দিল্লি সরকারের। কিছুদিন আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন তৃতীয় দফায় কোভিড ১৯ লকডাউন শিথিল করা হবে। শনিবার থেকে খোলা হবে হোটেল। বাজারগুলিও এক সপ্তাহ খোলা রেখে দেখা হবে, এর ফলে বেশি করে করোনা ছড়ায় কিনা। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজাল এই দু'টি সিদ্ধান্তই নাকচ করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান হিসাবে বাইজাল ঘোষণা করেছেন, আপাতত হোটেল বা বাজার খোলা যাবে না।
গত মাসে দিল্লি সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হাসপাতালগুলি ছাড়া অন্যান্য হাসপাতালে কেবল দিল্লির বাসিন্দারাই ভর্তি হতে পারবেন। কিন্তু অনিল বাইজাল এই সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেন। কেজরিওয়াল লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বলেন, "এখন রাজনীতি করার সময় নয়। মতপার্থক্যেরও সময় নয়।"
এদিন কিষেণ রেড্ডি মন্তব্য করেন, তেলঙ্গানায় কোভিড টেস্টিং আরও বাড়াতে হবে। তাঁর কথায়, "আমি রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করব, তারা যেন টেস্টিং টেসিং ও ট্রিটমেন্টের ওপরে জোর দেয়। আরও বেশি সংখ্যক টেস্ট হওয়া প্রয়োজন। টেস্ট যত বেশি হবে, করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তত দ্রুত।"
তেলঙ্গানায় এখনও পর্যন্ত ৬২ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিষেণ রেড্ডি জানান, করোনা ঠেকাতে তেলঙ্গানাকে সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র ইতিমধ্যে তেলঙ্গানাকে ১২০০ ভেন্টিলেটার, বিপুল সংখ্যক এন৯৫ ফেস মাস্ক ও পিপিই দিয়েছে।