.webp)
শেষ আপডেট: 2 November 2023 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘রেশন দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না’, বুধবারও তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন ধৃত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বর্তমান আপ্ত সহায়ক অমিত দে। সূত্রের খবর, বুধবার অমিতকে তাঁর ‘বসে’র মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার একইভাবে প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দে’কে জ্যোতিপ্রিয়র মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। জানতে চাওয়া হবে তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া ‘বালুদা’র মেরুন ডায়েরির বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য।
সূত্রের খবর, ওই মেরুন ডায়েরিতে তারিখ ধরে ধরে কার কাছ থেকে কবে, কত টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং সেই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করা হয়েছিল সেই বিষয়ে বেশ কিছু হিসেব লেখা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জেরা পর্বে এই বিষয়েই অভিজিতের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন তদন্তকারীরা।
রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে গত ১৩ অক্টোবর চালকল মালিক বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইডি। সেই সময় জ্যোতিপ্রিয় দাবি করেছিলেন, “আমি বাকিবুরকে চিনি না। বাকিবুরকে আমি কোনওদিনই দেখিনি। সব বাজে কথা বলা হচ্ছে।” সূত্রের খবর, মন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎই গোয়েন্দাদের জানান যে বাকিবুর রহমানের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। বাকিবুর-জ্যোতিপ্রিয়র সেই ‘ঘনিষ্ঠতা’র বিষয়েও এদিন অভিজিতের কাছে আরও তথ্য জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা।
গত ২৬ অক্টোবর রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে দিনভর জ্যোতিপ্রিয়কে জেরা করে ইডি। একই সময় মন্ত্রীর প্রাক্তন এবং বর্তমান আপ্ত সহায়ক সহ ১২টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল। সূত্রের খবর, সে সময় মন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিতের বাড়ি থেকে একটি মেরুণ ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ডায়েরির ওপরে লেখা ছিল, ‘বালু দা’। সেখানে দিনক্ষণ ধরে মন্ত্রীর টাকা লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য লেখা ছিল।
ম্যারাথন জেরা শেষে গভীর রাতে মন্ত্রীকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। অসুস্থতার জেরে হাসপাতালের চিকিৎসাপর্ব মিটিয়ে গত সোমবার রাতে মন্ত্রীকে আনা হয় সিজিওতে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে জেরা পর্ব। তবে এখনও পর্যন্ত মন্ত্রী রেশন দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বিশেষ কোনও মন্তব্য করেননি বলেই সূত্রের খবর।
মন্ত্রীর বর্তমান আপ্ত সহায়ক অমিত গোড়া থেকেই তদন্তকারীদের কাছে দাবি করে এসেছেন, যা কিছু হয়েছে সবই তাঁর আগের আমলে অর্থাৎ প্রাক্তন আপ্ত সহায়কের আমলে। ফলে বৃহস্পতিবার জ্যোতিপ্রিয়র মুখোমুখি বসিয়ে অভিজিৎকে জেরা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।