দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্রুত শ্বাসের সমস্যা রুখবে। অতি সঙ্কটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রেও কাজ করবে। কম খরচে এমন ভেন্টিলেটর বানাচ্ছে কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। এই প্রজেক্টের কানপুর আইআইটির হাত ধরেছে জনপ্রিয় টেক-ফার্ম নোক্কা রোবোটিক্স। আগামী মাসের মধ্যেই ৩০ হাজার ইউনিট এমন ভেন্টিলেটর বাজারে চলে আসবে বলে জানানো হয়েছে আইআইটির তরফে।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই ভোগেন তীব্র শ্বাসকষ্টে। সংক্রমণ মৃদু হলে শ্বাসের সমস্যা কম হয়, তবে ফুসফুস খুব বেশিরকম আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখা যায় রোগীকে। এই সময় ভেন্টিলটর সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের সংখ্যা আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে সীমিত। ম্যানুয়ালি বা পোর্টেবল ভেন্টিলেটর বানানোর কাজ চলছে নানা জায়গায়। কানপুর আইআইটির ডিরেক্টর অভয় কারান্দিকার বলেছেন, “এই ইনভেসিভ ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি হয়ে গেছে। কৃত্রিম ফুসফুস ও মানুষের ডামি তৈরি করে ট্রায়াল চলছে। নোক্কা রোবোটিক্সের সাহায্যে এই ভেন্টিলেটরের প্রযুক্তিতে অনেক নতুনত্ব আনা হয়েছে। এই প্রজেক্টের ফান্ডের জন্য এগিয়ে এসেছে স্ট্যান্ডার্চ চাটার্ড ব্যাঙ্ক।”
https://twitter.com/PIBMumbai/status/1247234593649872897
মহারাষ্ট্রের টেক-জায়ান্ট নোক্কা রোবোটিক্স সোলার প্যানেল-সহ নানা প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষতা দেখিয়েছে। এবার করোনা লড়াইয়ে তারা কানপুর আইআইটির পাশে। Nocca V110 নামে এই ভেন্টিলেটরের নকশা তৈরিতে আইআইটির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এই সংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা। এই প্রজেক্টের নেতৃত্বে রয়েছেন কানপুর আইআইটির স্টার্টআপ ইনোবেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের অধ্যাপক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, সংক্রমণ যদি রোগীর শরীরে বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এই ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুবই কাজে আসবে। অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ডিস্ট্রেস সিন্ড্রোমে (ARDS) ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ইনভেসিভ ভেন্টিলেটর বড় অস্ত্র হবে ডাক্তারদের কাছে। প্রেসার-কন্ট্রোল মোডে চলবে এই ভেন্টিলেটর, রিমোর্টের সাহায্যে একসঙ্গে অনেকগুলো ভেন্টিলেটরকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
https://twitter.com/karandi65/status/1247529281783123970
অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল সার্জিক্যাল মাস্ক বানিয়ে চমকে দিয়েছিল কানপুর আইআইটি। ৩-৪ টি কোটিং মেটিরিয়ালের ওই মাস্ক তৈরি হয়েছে অ্যান্টি-ভাইরাল কম্পাউন্ড দিয়ে যা ভাইরাসের প্রোটিনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে পারবে। সংক্রমণ শরীরে ছড়িয়ে পড়তে দেবে না। আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর অভয় কারান্দিকারের কথায়, মাস্ক, পিপিই, ফেস-শিল্ড, ভেন্টিলেটর থেকে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার উপাদান, সবই বানানো হয়েছে আইআইটির ল্যাবরেটরিতে। কম খরচে হেডগিয়ার ও ফেস-শিল্ড তৈরির কাজও চলছে। উন্নতমানের পিপিই আর কিছুদিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে হাসপাতাল-নার্সিহোমগুলিতে।