দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯ পরীক্ষার জন্য চিন থেকে আসা র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটগুলি ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছিল দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে। কিন্তু তাকে কেন্দ্র করে যেভাবে চিন থেকে কিট আমদানি বন্ধের দাবি উঠেছে সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করল বেজিং। তাদের বক্তব্য, দু'টি সংস্থার তৈরি কিটে মূলত এই সমস্যা দেখা গেছে। সে জন্য চিনে তৈরি সব কিট ত্রুটিপূর্ণ তা বলা যায় না। তারা আশা করছে, এই বিষয়টি ভারত সরকার যুক্তিসঙ্গত ভাবে সমাধান করবে।
সোমবারই সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই চিনা সংস্থার থেকে কিট কেনার কারণে ভারতের কোনও অর্থই খরচ হয়নি। কারণ ওই অর্ডারটিই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কোনও টাকাই তাদের অগ্রিম দেওয়া হয়নি।
এর পরের দিনই, আজ, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে স্থিত চিনের দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বললেন, ‘‘ভারতের আইসিএমআর-এর এই সিদ্ধান্তে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ চিন খুবই গুরুত্ব সহকারে এই সামগ্রীগুলি পাঠিয়েছিল।''
গুয়ানঝাউ ওন্ডফো বায়োটেক ও ঝুহাই লিভজন ডায়াগনস্টিকস নামের দুই সংস্থার সরবরাহ করা টেস্ট কিটই ‘ত্রুটিপূর্ণ' হিসেবে গণ্য করেছে আইসিএমআর। আইসিএমআর-এর কাছ থেকে এই ফিডব্যাক পেয়ে সরকার এই ত্রুটির কথা ঘোষণাও করেছে। আইসিএমআরের তরফ থেকে আলাদা করে রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই কিটগুলি ব্যবহার না করতে। এর পরেই ভারতের তরফে সমস্ত কিট ফেরত পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় চিন যে শুধু উদ্বিগ্ন তা নয়, খানিক ক্ষুব্ধও। তা চিনা মুখপাত্রের বিবৃতিতেও পরিষ্কার। কারণ ওই বিবৃতিতে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, "চিনা সামগ্রীকে সামগ্রিক ভাবে ‘ত্রুটিপূর্ণ' বলে দাগিয়ে দেওয়াটা অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। কোনও কোনও ব্যক্তি এটা করছে।"
এ মাসের গোড়া থেকেই ৫ লক্ষেরও বেশি র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট ভারতে রফতানি করে ওই দুই চিনা সংস্থা। পরে সরকার তা রাজ্যগুলির মধ্যে সরবরাহ করে। আইসিএমআর ঘোষণা করেছিল, করোনা হটস্পটের মধ্যে বাস করা সমস্ত ব্যক্তির উপরেই এই পরীক্ষা করা হবে কিন্তু নতুন টেস্ট কিট সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছিল রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের মতো কিছু রাজ্য। তাদের দাবি, এই কিটের সঠিক ফল দেওয়ার পরিমাণ ৫.৪ শতাংশ। বিরোধী দলগুলি এমন কিট কেনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন উদ্বিগ্ন চিন?
পর্যবেক্ষকদের মতে, চিনকে নিয়ে এক অদ্ভূত পরিস্থিতি তথা ভাবনা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। চিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে, কত জনের মৃত্যু হয়েছে, ইত্যাদি বিষয় বেজিং বিশ্বকে যে তথ্য এখনও পর্যন্ত দিয়েছে সে ব্যাপারে উন্নত দেশগুলির অনেকের সন্দেহ রয়েছে। অনেকের এও মত, চিন গোটা পৃথিবীকে বিভ্রান্ত করেছে। তারা তথ্য গোপন করার কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভাইরাসঘটিত সংক্রমণের তীব্রতা শুরুতে আন্দাজ করতে পারেনি। তার উপরে কোভিডের সংক্রমণের জন্য গোটা বিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাটাল তখন চিনা বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির আগ্রাসন নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন।
কিন্তু তা যেমন ঠিক, তেমনই এও ঠিক যে পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস, টেস্ট কিট ইত্যাদির উৎপাদন চিনে যত পরিমাণে হচ্ছে, তা অন্য কোনও দেশে হচ্ছে না। ফলে সেগুলির জন্য চিনের উপর নির্ভরশীলতা অনেকের রয়েছে। সেই কারণেই বিভিন্ন দেশ চিনা সংস্থাগুলিকে বরাত দিয়েছিল। এখন সেই সব সামগ্রীও আবার ত্রুটিপূর্ণ বেরনোয় চিনের উপর আরও নেতিবাচক ধারনা তৈরি হচ্ছে মানুষের। বেজিংয়ের উদ্বেগ রয়েছে, আগামী দিনে চিনে উৎপাদিত সামগ্রী বয়কটের কথাও ভাবতে পারে অনেকে। তা যদি হয়, তা হলে তাদের অর্থনীতিও ধাক্কা খাবে। এই পরিস্থিতিতেই হয়তো মঙ্গলবার বিবৃতি দেওয়া হয়েছে চিনা দূতাবাসের তরফে।