দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিপাবলিক টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে যাঁরা জেরা করছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্তত এক জন বা দু'জন পুলিশ অফিসারের করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এমনই দাবি করলেন অর্ণব গোস্বামীর আইনজীবী হরিশ সালভে। যদিও এ বিষয়টি মুম্বই পুলিশের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি এখনও।
কিছুদিন আগেই তাঁর রিপাবলিক টিভির একটি শো-তে অর্ণব গোস্বামী বলেছিলেন পালঘর গণহত্যা কাণ্ডে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধি খুশি হয়েছেন। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসনেত্রীকে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করার অভিযোগ এনে মুম্বইয়ের বেশ কিছু পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দায়ের করা হয়। একই অভিযোগ করা হয় ছত্তীসসগড়, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে। এর পরেই সুপ্রিম কোর্ট সব ক’টি মামলা একত্রে নিয়ে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয় পুলিশকে।
এই ঘটনার তদন্তে ২৮ এপ্রিল সেন্ট্রাল মুম্বইয়ের এনএমজোশী মার্গ থানায় চলে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয় অর্ণব গোস্বামীকে। এর পরে অবশ্য অর্ণব দাবি করেন, তিনি পুলিশকে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছেন এবং পুলিশও তাঁর উত্তর শুনে খুশি হয়েছে। কিন্তু এর পরে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।
আজ, সোমবার সেই মামলার শুনানিতে আইনজীবী হরিশ সালভে সওয়াল করেন, "আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে তাতে তাঁকে ১২ ঘণ্টা ধরে জেরা করার কথা নয়। পুলিশ তদন্তের নামে হেনস্থা করছে তাঁকে। চ্যানেলের পয়সা কোথা থেকে আসে-- এই জাতীয় প্রশ্নও করা হয়েছে। এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।"
হরিশ সালভের আরও দাবি, সংবাদমাধ্যমে কেউ কোনও মতামত দিলে, তাতে যদি কেউ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য দেখতেও পান, তাতেও অভিযোগ করা যায় না। কারণ অর্ণবের মন্তব্যের কারণে কোনও দাঙ্গা হয়নি। সেইসঙ্গেই তিনি বলেন, তদন্তে যুক্ত পুলিশ অফিসারের করোনা ধরা পড়েছে, যা তাঁর মক্কেলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্র পুলিশের আইনজীবী কপিল সিব্বল পাল্টা বলেন, "নিয়ম মেনেই তদন্ত চলছে। জেরা চলাকালীন অর্ণব গোস্বামীকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এটা কি কোনও হেনস্থার পর্যায়ে পড়ে? উনি সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে সংবিধানের আর্টিকেল ১৯ অমান্য করেছেন।"
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে কুমন্তব্য করা ছাড়াও, বান্দ্রায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের জমায়েতের দিকে মিথ্যা আঙুল তোলার অভিযোগে আরও একটি মামলা রুজু করা হয় অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে। মুম্বই পুলিশের তরফে দায়ের করা এই মামলায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় হাজার খানেক মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো, দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতের মানুষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা– কোনও ধারাই বাদ নেই।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর আইনজীবী হরিশ সালভে মুম্বই পুলিশের জেরা করার পদ্ধতিতে গলদ রয়েছে বলে অভিযোগ করে এ-ও দাবি করলেন, অর্ণবকে যে পুলিশ্র দল জেরা করছে তার মধ্যে এক জন করোনায় আক্রান্ত। এই অবস্থায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়া তাঁর মক্কেলের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।