দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পরিকরকে দেখতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও পরিকর মুখ্যমন্ত্রীর পদে আছেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল। সম্প্রতি পরিকর ফের ভর্তি হয়েছেন এইমসে। কংগ্রেসের এক বিধায়ক মন্তব্য করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এবার সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করা উচিত।
যিনি ওই মন্তব্য করেছেন, তাঁর নাম রেজিনাল্ডো লৌরেনকো। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত অপর কাউকে দায়িত্ব দিয়ে নিজে সরে যাওয়া। তিনি কী করবেন তা আমার বলার কথা নয়। তাঁর পার্টিই বলবে এখন কী করা উচিত। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার তিনি স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলেই ভালো করবেন।
একইসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করেন, পরিকর যেভাবে বিধানসভায় আসেন সেভাবে কারও আসা উচিত নয়। তাঁর নাক থেকে একটা নল বেরিয়ে থাকে। পকেট থেকে বেরিয়ে থাকে ক্যাথিটার। একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর এইভাবে বিধানসভায় আসা ঠিক নয়।
গোয়া বিধানসভার তিনদিনের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন পরিকর। এমনকী সংক্ষিপ্ত বাজেট ভাষণও দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গোয়ার সেবা করে যাবেন।
রাহুল বলেছিলেন, পরিকর নিজে তাঁকে বলেছেন, রাফায়েল চুক্তির সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে তাঁর মত নেওয়া হয়নি। পরে পরিকর একথা বলার জন্য কংগ্রেস সভাপতির সমালোচনা করেন। এর আগে পরিকর যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কংগ্রেস দাবি জানিয়েছিল, তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। গোয়ার রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার কাছে তারা দাবি জানিয়েছিল, বিজেপি সরকারকে এখনই বরখাস্ত করা হোক। তার বদলে সরকার গড়ার সুযোগ দেওয়া হোক তাদের। কারণ বিধানসভায় তাদের দলের শক্তি এখন সবচেয়ে বেশি।
এর কিছুদিন পরেই দুই কংগ্রেস বিধায়ক যোগ দেন বিজেপিতে।
কংগ্রেসের দাবি, গোয়ায় বিজেপির অনেক শরিক দলই এনডিএ ছাড়তে আগ্রহী। কিন্তু পাছে গোয়াতেও জম্মু-কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাই তারা জোট ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারছে না। তার জবাবে বিজেপির মুখপাত্র দামোদর নায়েক বলেন, সরকার ভালো কাজ করছে। রাজ্য জুড়ে অনেক রাস্তা, হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। এসব দেখে হতাশ হয়ে পড়ছে কংগ্রেস। তাই তারা পরিকরের ইস্তফা দাবি করেছে।