দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Nehru) জন্মদিনে প্রতিবারের মতো এদিনও সংসদ ভবনে অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু সেখানে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। সেজন্য রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁরা জানান, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কিংবা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডুও নেহরুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসেননি।
এদিন সংসদের সেন্ট্রাল হলে নেহরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ টুইট করে বলেন, সংসদে আজ এক অদ্ভূত দৃশ্য দেখা গেল। সংসদের সেন্ট্রাল হলে যাঁদের ছবি ঝোলানো আছে, তাঁদের একজনের জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল। সেখানে লোকসভার স্পিকার ছিলেন অনুপস্থিত। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ছিলেন অনুপস্থিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাউকেই দেখা যায়নি। এর চেয়ে বড় ঔদ্ধত্য আর কী হতে পারে।
সংসদে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভানুপ্রতাপ সিং বর্মা। এছাড়া রাজ্যসভায় বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও আরও কয়েকজন সাংসদও উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার মণিপুরে জঙ্গি হানা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতারা। শনিবার সকালে মণিপুরে সন্ত্রাসবাদীদের অতর্কিত আক্রমণে অসম রাইফেলসের কর্নেল বিপ্লব ত্রিপাঠি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া অসম রাইফেলসের আরও চার জওয়ানও শহিদ হন। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ওই হামলা আরও একবার প্রমাণ করল, মোদী সরকার জাতিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
রাহুল টুইটারে লেখেন, "মণিপুরে সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলা আরও একবার প্রমাণ করল মোদী সরকার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। শহিদদের আত্মত্যাগ মনে রাখবে দেশ।"
রবিবার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট টুইট করে বলেন, "মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে অসম রাইফেলসের কনভয়ে জঙ্গি হানার তীব্র নিন্দা করছি। ওই হানায় পাঁচ সাহসী সেনা ও তাঁদের পরিবারের দুই সদস্য মারা গিয়েছেন। শহিদদের কুর্নিশ জানাই।" কংগ্রেসের অপর শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, "খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আশা করি, যারা ওই ঘটনার জন্য দায়ী শীঘ্র তারা ধরা পড়বে।"
রবিবার জানা যায়, মণিপুরে জঙ্গি হামলায় মৃত কর্ণেল বিপ্লব ত্রিপাঠি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন খুবই নম্র ও ভদ্র। তাঁর ব্যবহারে খুশি ছিলেন তাঁর অধীনস্থরা। মানুষের বিপদে আপদেও ছুটে যেতেন তিনি।
এদিন স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানান অজানা গল্প। স্বাধীনতা সংগ্রামী দাদুর অনুপ্রেরণাতেই সেনা জীবনে আসা বিপ্লবের। ছোট থেকেই সেনাদের প্রতি ছিল তাঁর অসম্ভব শ্রদ্ধা। যা তাঁকে ধীরে ধীরে টেনে আনে এই জীবনে। বিপ্লব ত্রিপাঠির কাকার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে এমন তথ্য।