দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, যাঁরা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিবারাত্র পরিশ্রম করে চলেছেন, আপনারা হাততালি দিয়ে তাঁদের সম্মান জানান। শনিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বললেন, হাততালি দিয়ে লাভ নেই। তাতে দিনমজুর বা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কোনও সুবিধা হবে না। দেশের অর্থনীতি বেহাল হয়ে পড়েছে। তাকে চাঙ্গা করতে হলে চাই বড় আর্থিক প্যাকেজ।
তিনি টুইট করে বলেন, "আমাদের অর্থনীতির অবস্থা এমনিতেই খারাপ হয়ে পড়েছিল। তার ওপরে বড় ধরনের আক্রমণ করেছে করোনাভাইরাস। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি।" এরপরেই তিনি বলেন, "হাততালি দিলে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনও সুবিধা হবে না। এখন আর্থিক প্যাকেজ দরকার। করছাড় দেওয়া দরকার। সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
করোনাভাইরাস মহামারীর আগে আশাবাদীরা বলছিলেন, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের হার বাড়বে ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে। কিন্তু এখন প্রায় প্রতিটি শিল্প নানারকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ছোট ও মাঝারি শিল্পের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তারা সকলেই চায়, সরকার তাদের সাহায্য করুক।
কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে অর্থনীতিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আমেরিকায় হাজার কোটি ডলারের রেসকিউ প্ল্যান নিয়ে আলোচনা চলছে। তাছাড়া ফেডারেল রিজার্ভ ইতিমধ্যে ঋণ দেওয়া নিয়ে কড়াকড়ি শিথিল করেছে। বিভিন্ন শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয়ান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্ক অব জাপানও বিনা সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে। ব্রিটেন ঘোষণা করেছে ৩২০০ কোটি পাউন্ডের কোভিড-১৯ ফিসকাল প্যাকেজ।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, শীঘ্র তৈরি হবে ইকনমিক টাস্ক ফোর্স। কোভিড-১৯ এর ক্ষতি কীভাবে সামলানো যায়, তার পলিসি তৈরি করবে টাস্ক ফোর্স। কোনও কোনও মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, মোদী সরকারও শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য রেসকিউ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে। তার মধ্যে উড়ান শিল্পের জন্য হয়তো ১২ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। উড়ান বাদে পর্যটন ও হোটেল শিল্পও মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্যও প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে শীঘ্র।