দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। কার্লোস লোপেজ নামের ২৭ বছরের এক ল্যাটিনো যুবককে ফের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অ্যারিজোনার এই ঘটনাটি সামনে আসতেই বুধবার পদত্যাগ করেছেন স্থানীয় পুলিশপ্রধান।
দিন কয়েক আগে সামনে এসেছিল মার্কিন পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ভিডিও। প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল আমেরিকা তথা সারা বিশ্ব। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে, সাদা চামড়ার পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ড যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার আমেরিকায়। জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে যখন বিক্ষোভ চলছিল, তার মধ্যেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান রেশার্ড নামে আরও এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। এবার ফের সামনে এল মর্মান্তিক খুন। ফ্লয়েডের মতোই পিষে মারার দৃশ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গত ২১ এপ্রিলের। অ্যারিজোনার টুসন শহরে পুলিশের নির্যাতনে দম বন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছরের ল্যাটিনো যুবক কার্লোস ইনগ্রাম লোপেজ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কার্লোসকে পিঠের দিকে দু'হাত টেনে ধরে হাতকড়া পরিয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় তাঁর মাথা-মুখ চেপে ধরা হয়েছে তলপেটে। তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না, জল জল বলে চিৎকার করছেন। একটা সময়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "দম নিতে পারছি না। দম নিতে পারছি না।" ঠিক ফ্লয়েডের মতোই! এভাবে টানা ১২ মিনিট রাখার পরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন কার্লোস।
পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, কার্লোস মদ খেয়ে নিজের পরিবারের মানুষের সঙ্গে মাতলামি ও চিৎকার চেঁচামেচি করছিলেন। এর পরেই তাঁর পরিবারই পুলিশকে ফোন করে। পুলিশ তাঁকে আটক করার পরেও তিনি মাতলামি করছিলেন, তাই তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই চেপে ধরা হয়েছিল নাকি।
কিন্তু একথা মুখে বললেও, ভিডিওটি সামনে আসার পরেই অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসন শহরের পুলিশপ্রধান ক্রিস ম্যাগনাস পদত্যাগ করেন। ঘটনায় জড়িত আরও তিন পুলিশ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
গত ২৫ মে আমেরিকার মিনিয়েপোলিসে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ। তাঁকে পুলিশ ঘাড়ে ধরে মাটির সঙ্গে চেপে ধরলে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। তিনিও মারা যাওয়ার আগে কাতর চিৎকার করেছিলেন, "দম নিতে পারছি না!"
এই ঘটনা সামনে আসতেই তা নিয়ে বর্ণবৈষম্যবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। এবার সামনে এল আরও এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা, একই ভাবে।