
শেষ আপডেট: 21 April 2020 06:43
১৯৯০ সালে ইয়র্কশায়ারের চিড়িয়াখানায় প্রথম আনা হয় রোজিকে। সেই বছরই চিড়িয়াখানার বিশেষ প্রজনন কর্মসূচিতে রোজি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নিজের প্রজাতির অস্তিত্ব সংরক্ষণের জন্যই বেশ কিছু সন্তানের জন্ম দেয় সেখানে। তার পর থেকেই সে বেশ আদরের সকলের কাছে।
মানুষের নানা কার্যকলাপ যেমন অতিরিক্ত শিকার, সমুদ্রের জলের পরিবেশ নষ্ট হওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে এই প্রজাতির পেঙ্গুইন প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর চিলি অঞ্চলে এই প্রজাতির পেঙ্গুইনদের মূলত দেখতে পাওয়া যায় এখনও। এদের জীবনকাল ১৫ থেকে ২০ বছর। কিন্তু রোজি যেন সকলের থেকে আলাদা, সে বার্ধক্যকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পৌঁছে গেল তার ৩০তম জন্মদিনে।
করোনা আতঙ্কের জেরে গোটা পৃথিবী জুড়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ, বন্ধ চিড়িয়াখানাও। চিড়িয়াখানার এক কর্মী বলছেন, এটি সত্যিকারের দুঃখের বিষয়, যে তাঁরা রোজির জন্মদিনের মুহূর্ত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারছেন না। তবে ঝড় থেমে সব শান্ত হয়ে গেলে রোজি আবার তার অগণিত ভক্তর সামনে আসতে পারবে।
চিড়িয়াখানায় রোজিকে যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি জানান, তাঁরা অত্যন্ত খুশি যে তারা এই আশ্চর্যজনক প্রজাতিকে সংরক্ষণ করতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কাজ তারা চালিয়ে যাবেন। তা ভীষণ ভাবে প্রয়োজনও। কারণ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ্ নেচার দাবি করেছে, রোজিদের এই প্রজাতিকে যদি সময়মতো সংরক্ষণ করা না যায়, তাহলে যে কোনও দিন এরা পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু ইতিহাস বলছে, সভ্যতার ধারা বজায় রাখতেই রোজিদের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা খুব প্রয়োজন। তাই তার ভক্তরা তাকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছে, হ্যাপি বার্থ ডে রোজি! তুমি আরও দীর্ঘায়ু হও।