দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রতি বছর রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে আগের চেয়ে ডবল, তিনগুণ কিংবা আরও বেশি। এত দলকে প্রতীক দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এবার বিহারে বিধানসভা ভোটে নানা বিচিত্র প্রতীক নিয়ে লড়ছে ছোট ছোট দলগুলি। ভোটের প্রতীক হিসাবে দেখা যাচ্ছে চপ্পল, জুতো, বেবি ওয়াকার, আঙুর, ক্যাপসিকাম, বেলুন এমনকি কড়াই-এর ছবি।
বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতিনরাম মাঝির দল জোট বেঁধেছে জেডি ইউ-এর সঙ্গে। সেই দল লড়বে সাতটি আসনে। তাদের প্রতীক কড়াই। দলের মুখপাত্র দানিশ রিজওয়ান বলেন, তাঁরা আগে ভেবেছিলেন, দলের প্রতীক হবে টেলিফোন। কিন্তু পরে অনেকে ভাবলেন, ভোটার হয়তো সেই প্রতীককে ক্যালকুলেটর অথবা ট্রানজিস্টার ভাবতে পারেন। তাই তাঁরা শেষ পর্যন্ত কড়াই প্রতীক বেছে নিয়েছেন। এই প্রতীককে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য জিতিনরাম একদিন গয়া শহরে কড়াইতে রান্না করেছিলেন হালুয়া। সেই হালুয়া বিলোন হয়েছিল শহরের মানুষকে।
মহারাষ্ট্রের শাসক দল শিবসেনাও বিহারে ভোটে লড়াই করছে। এখানে তাদের প্রতীক বিস্কুট। পাপ্পু যাদবের দল ২০১৫ সালে বিহারের ভোটে হকি স্টিক প্রতীকে লড়াই করেছিল। এবার তাদের প্রতীক কাঁচি। জেএমএম লড়াই করছে লাঠি প্রতীক নিয়ে। লোক শক্তি পার্টি (এল)-এর প্রতীক ডিশ অ্যান্টেনা। আপের প্রতীক ঝাঁটা। সমাজবাদী পার্টির প্রতীক সাইকেল।
জনহিত দল নামে একটি নতুন পার্টির প্রতীক হল ব্যাটসম্যান। রাষ্ট্রীয় জন জন পার্টি-র প্রতীক ব্যাট। ভারতীয় আম আওয়াম পার্টির প্রতীক ক্যাপসিকাম। রাষ্ট্রীয় সব জনশক্তি পার্টির চিহ্ন আঙুর।
করোনা সংকটের মধ্যেই এবার ভোট হচ্ছে বিহারে। সেজন্য প্রচারে কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাছাড়া বিহার সরকারও নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব মেনে তবেই প্রচারে অংশ নেওয়া যেতে পারে। কোনও মিছিলে ২০০ জনের বেশি থাকা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। মিছিলে যারা থাকবে তাদেরও একে অপরের সঙ্গে ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। নেতারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরা বা হাত মেলানো থেকে বিরত থাকবেন। কোনও জায়গায় মিছিল বা সভার আগে উদ্যোক্তাদের তরফে সেখানে স্যানিটাইজেশনের বন্দোবস্ত রাখতে হবে।
অবশ্য এর মধ্যে রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ভোটের প্রচারে সময় দ্বিগুণ করেছে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, বিহারের যেসব রাজনৈতিক দলের বৈধতা রয়েছে তাদের প্রত্যেকের প্রচার অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শনের মাধ্যমে করা হবে। তবে শুধুমাত্র বিহারেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। এর জন্য আলাদা করে কোনও টাকা দিতে হবে না। সব দলের প্রচারের জন্য ৯০ মিনিট বা দেড় ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, “বিহারের প্রতিটি বৈধ রাজনৈতিক দলের প্রচারের জন্য বিহারের অল ইন্ডিয়া রেডিও নেটওয়ার্ক ও দূরদর্শনে ৯০ মিনিট করে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রচারের জন্য অতিরিক্ত সময় ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলে উপর নির্ভর করে দেওয়া হবে।”