উত্তরাখণ্ডে দুর্যোগে আটকে বাঙালি পরিবার, জল নেই, খাবার নেই, ঘরবন্দি পর্যটকেরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে লণ্ডভণ্ড উত্তরাখণ্ড। একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাট, রেললাইন জলের তলায়। ধসে ভেঙেছে বাড়িঘর, দোকানপাট। নৈনিতাল লেকের জল উপচে ভাসছে শহরের রাস্তাঘাট। মঙ্গলবার সকাল অবধি ১৬ জনের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 19 October 2021 08:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে লণ্ডভণ্ড উত্তরাখণ্ড। একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাট, রেললাইন জলের তলায়। ধসে ভেঙেছে বাড়িঘর, দোকানপাট। নৈনিতাল লেকের জল উপচে ভাসছে শহরের রাস্তাঘাট। মঙ্গলবার সকাল অবধি ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। খোঁজ মিলছে না অনেকের। উত্তরাখণ্ডে গিয়ে বৃষ্টিতে আটকে পরে নাকাল হচ্ছেন পর্যটকরা। হুগলির একদল বাঙালি পর্যটক ভূমিধসে আটকে পড়েছেন। গত দু'দিন ধরে জল নেই, খাবার নেই। বিপর্যস্ত অবস্থা সকলের।
কেদারনাথ বেড়াতে এসে দুর্যোগে ঘরবন্দি হুগলির রায় পরিবার।গত ১৫ অক্টোবর পূর্বা এক্সপ্রেসে চেপে ১৭ তারিখ কেদারে পৌঁছন রায় পরিবার। তারপর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে সেখানেই আটকে রয়েছেন চুমকি ও বিশ্বজিৎ রায়। তাঁদের সঙ্গে অরিজিৎ শীল ও সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় নামের আরও দুই পর্যটক ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু ভারী বৃষ্টি আর ঝড় শুরু হতেই ধস নামে পাহাড়ে। অরিজিৎ ও সত্যব্রত বাবু ঝুঁকি নিয়ে গৌরীকুন্ডে নেমে চলে আসতে পারলেও রায় পরিবার নামতে পারেননি। তাঁদের কেদারনাথ থেকে বদ্রীনাথ, গুপ্তকাশি হয়ে লখনৌ পৌঁছে ২৪ তারিখ বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার ফেরে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা বাতিল হয়।

রায় পরিবার জানাচ্ছে, আবহাওয়া ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। বাইরে বেরোবার উপায় নেই। তুমুল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। খাবার, পানীয় জল নেই। এখনও অবধি কোনও সরকারি সাহায্য মেলেনি বলেই জানিয়েছে সেই পরিবার।
বাঙালি পর্যটকরা বলছেন, দুর্যোগের মধ্যে কেদারনাথের হেলিকপ্টার পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকে রয়েছেন কেদারে। সেই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারের কাজ চালানো হলেও আবহাওয়ার কারণেই বারবার বাধা আসছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত দু’দিন ধরেই অবিরাম বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডের পাড়ুই, দেহরাদূন, পিথোরাগড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঋষিকেশের রামঝুলায় বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে বইছে গঙ্গা। দেহরাদূন ও ঋষিকেশের বহু এলাকা এখনও জলমগ্ন। চন্দ্রভাগা ব্রিজ, তপোবন, লক্ষণঝুলা প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নৈনিতাল লেকের জলস্তর বেড়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে থাকায় উদ্ধারকার্য বিলম্বিত হচ্ছে। তবে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'