দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর সালেম সরগরম রবিবার মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সোস্যালিজমের বিয়ে নিয়ে। অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সোস্যালিজম সত্যিই পাত্রের নাম। পুরো নাম এ এম সোস্যালিজম। আর সত্যিই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হচ্ছে। তবে ইনি অন্য মমতা।
দুজনের বিয়ের আমন্ত্রণপত্র সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সোস্যালিজমের ২ ভাইয়ের নামও তার মতোই। কমিউনিজম, লেনিনিজম। বিমূর্ত চেহারা নয়, এরা সকলেই রক্তমাংসের মানুষ। এদের এমন বিচিত্র নাম কেন, প্রশ্ন জাগবেই। আসলে এরা সবাই কমিউনিস্ট পরিবারের সন্তান। এদের বাবা সিপিআইয়ের সালেম জেলা সম্পাদক এ মোহন। কমিউনিস্ট পরিবারের জন্ম হওয়া মোহন অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির হোলটাইমার হন। তিনি নিজেদের ছেলেদের নামকরণ করেন বাম মতাদর্শ অনুসারে। যেমন প্রথম সন্তানের নাম কমিউনিজম, মেজো ছেলে লেনিনিজম, ছোটজন সোস্যালিজম। নাতির নাম রেখেছেন মার্ক্সিজম। সোস্যালিজমের বিয়েতে এরা সবাই হাজির থাকবেন।
মোহনের স্ত্রী যখন প্রথম সন্তানসম্ভবা হন, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অনেকে বলেন, কমিউনিজমের মৃত্যু সহ্য করতে, মেনে নিতে পারেননি মোহন। তাই বড় ছেলের নামকরণের মধ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। মোহন বলেছেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেল। খবর বেরল, কমিউনিজমের অবসান ঘটেছে। আমার স্ত্রী তখন গর্ভবতী। আমি মনঃস্থির করে নিই, ছেলে হলে নাম কমিউনিজমই রাখব। মানবজাতি যতদিন থাকবে, কমিউনিজমের মৃত্যু নেই। দ্বিতীয় ছেলের নাম রাখি লেনিনের স্মরণে। আর সমাজতন্ত্র সাকার হতে গেলে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মোহনের ব্যাখ্যা, এই নামগুলো এখন হয়তো বাইরের লোকের কানে নতুন লাগবে, কিন্তু এখানে এসব সাধারণ ব্যাপার। প্রায় ৬০ বছর আগে সিনিয়র কমরেডদের নাম রাখা হত কমিউনিস্ট দেশ, সেখানকার নেতাদের নামে। যেমন মস্কো, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, ভেনমণি, চেকোশ্লাভাকিয়া, ভূপেশ গুপ্ত। আমার সন্তানদের নামও সেভাবেই রেখেছিলাম।
এবার পাত্রীর কথায় আসা যাক। পাত্রী মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেস পরিবারের মেয়ে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির আগে কংগ্রেস করতেন। তিনি যখন কংগ্রেসে ছিলেন, তখন তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা মাথায় রেখে তাঁর নামেই মেয়ের নাম রাখে পাত্রীর পরিবার। সিপিআই নেতার পরিবারের খুব ঘনিষ্ঠ মমতার পরিবার। সেই সূত্রেই বিয়ে।