দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ দিন পেরিয়ে গেল কৃষক আন্দোলনের। এরই মধ্যে হারিয়েছে অন্তত ৩৩টি প্রাণ। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা কৃষকদের স্মরণে ভারতজুড়ে আজ শ্রদ্ধঞ্জলি দিবস পালনের ডাক দিল অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা।
হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও অন্য়ান্য রাজ্য থেকে আসা কৃষকদের নিয়ে সংগঠিত এই আন্দোলনে যেমন প্রবল ঠান্ডায় মারা গিয়েছেন কোনও কৃষক, তেমনই আবার আন্দোলনকারীদের দুর্দশা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতীও হয়েছেন এক শিখ সন্ত। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বেশ কয়েক জন।
তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশে আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে ছিল মৃত কৃষকদের স্মরণসভা, মানববন্ধন, কৃষি আইনবিরোধী প্রচার এবং প্রার্থনা। বিকেল পাঁচটায় হচ্ছে মোমবাতি মিছিল।
দু'দিন আগেই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর কৃষকদের একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, কৃষি আইন চাষিদের কল্যাণের জন্যই আনা হয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্র সব সময় কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। কৃষি আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিতে রাজি তারা। বিরোধীদের ভুল বোঝানোর কারণে কৃষকরা যাতে জেদ না করেন, সে কথাও লেখেন তিনি।
এর পরেই শনিবার কৃষক সংগঠনের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এই আন্দোলন অকৃত্রিম কৃষক আন্দোলন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই। সরকার যদি তাঁদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখে তা হলে বোঝা যাবে, দাবিগুলির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলেরই কোনও সম্পর্ক নেই।
চিঠি পর্বের আগে অবশ্য পাঁচবার কেন্দ্র-কৃষক বৈঠক হলেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। এর মধ্যেই আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত অবরুদ্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্টে কৃষক সংগঠনের দায়ের করা পিটিশনের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও বিষয়ে কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে এবং তার জন্য আন্দোলন চলতেই পারে। আন্দোলনে কারও সমস্যা নেই। কিন্তু দেখতে হবে তাতে যেন অন্য কোনও সমস্যা না হয়। আর আন্দোলন করলেই শুধু চলবে না, সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও করতে হবে। এখন দেখার এই পরিস্থিতি আগামী দিনে কোনদিকে যায়।