দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলন্ত ট্রেনের কামরায় ১১ বছরের মেয়েকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে। রেল পুলিশের কাছে এমন অভিযোগ জানিয়েছেন মেয়েটির বাবা, মা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নবযুগ এক্সপ্রেসে এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার। জিআরপি সূত্রে খবর, ধৃত জওয়ান মাদ্রাজ রেজিমেন্টের। নাম নায়েক এম গঙ্গাইয়া। কোয়েম্বত্তূরে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
কিশোরী ভোপালের বাসিন্দা। পুলিশকে তার বাবা জানিয়েছেন, নবযুগ এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাস কামরার তিনটি বার্থ বুক করেছিলেন তাঁরা। কিশোরী শুয়েছিলেন মাঝের একটি বার্থে। জওয়ার ছিলেন তাঁদেরই কাছাকাছি আর একটি বার্থে। দুপুর ২টো নাগাদ ট্রেনটি নিউ দিল্লি স্টেশনে পৌঁছয় এবং সেখানেই প্রায় ৪৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। সেই সময় মেয়েটির বাবা জওয়ানকে তাঁর বার্থ পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ করেন। তাতে রাজিও হয়ে যান তিনি। মেয়েটির বাবার অভিযোগ, “আমি খাবার কিনতে নীচে নামি। আমার স্ত্রী তাঁর ছোট ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। একা পেয়ে ওই জওয়ান আমার মেয়ের বুকে হাত দেয় এবং তাকে চুমু খেতে থাকে। আমি ফিরলে মেয়ে আমাকে সবটা জানায়।”
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে আগ্রা জিআরপি-র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই দিল্লিতে জওয়ানকে আটক করে পুলিশ ও সেনা। জেরায় জওয়ান জানান, তিনি নির্দোষ, মেয়েটির পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন কিন্তু তাঁরা মানতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “আমি ঘুমোচ্ছিলাম। বার্থ পরিবর্তন করার সময় আমি মেয়েটির উপর পড়ে যাই। পুরোটাই ছিল অনিচ্ছাকৃত ও অসাবধানতাবশত। এর জন্য আমি ক্ষমাও চেয়েছি। কোনও অসৎ উদ্দেশ্য আমার ছিল না।”
আগ্রা জিআরপি-র শীর্ষ আধিকারিক আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, পাঠানকোট থেকে নিজের রেজিমেন্টে প্রায় ছ’লক্ষ টাকার জিনিস নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই জওয়ান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪এ ও পকসো (৭/8) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।