দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিনা যুদ্ধে ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন না প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য কে পি সিংদেও-এর দাবি, এবার তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দিতে হবে। আগেই নাকি তাঁকে হাইকম্যান্ড বলেছিল, বাঘেল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আড়াই বছর পূর্ণ করার পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এই দাবি নিয়ে তিনি প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। শুক্রবার শোনা গেল, দিল্লি রওনা হয়েছেন ভূপেশ বাঘেলও।
হাইকম্যান্ডের তরফে ছত্তিসগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা পি এল পুনিয়া বলেন, “ছত্তিসগড়ে কংগ্রেস নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।” এই প্রথমবার তিনি স্বীকার করলেন, কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। ইতিমধ্যে বাঘেলের অনুগামী ৩৫ জন বিধায়ক পৌঁছেছেন দিল্লিতে। বাঘেল তাঁর শিবিরের শক্তি দেখানোর জন্যই তাঁদের দিল্লিতে পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।
বাঘেলকে এদিন রায়পুরে প্রশ্ন করা হয়, আপনি দিল্লিতে যাচ্ছেন কেন? তিনি বলেন, “গতকাল আমাকে হাইকম্যান্ড থেকে বলেছে, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে হবে। তাই আমি দিল্লিতে যাচ্ছি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ছত্তিসগড়ের বিধায়করা দিল্লিতে গিয়েছেন কেন? তিনি বলেন, “দিল্লিতে গিয়ে যে কেউ নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারেন।”
পি এল পুনিয়া বলেন, ভূপেশ বাগেল জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব বললেই তিনি পদত্যাগ করবেন। টি এস সিংদেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে রাজি আছেন তিনিও।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাহুলের সঙ্গে দেখা করেন সিংদেও। তখন থেকে তিনি দিল্লিতেই রয়ে গিয়েছেন। গত জুনে ছত্তিসগড়ে বাগেলের সরকার আড়াই বছর পূর্ণ করেছে। সিংদেও বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে যখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসে, তখনই স্থির হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময় অন্তর মুখ্যমন্ত্রী বদলানো হবে। সিংদেও-এর দাবি, তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাঘেলের সরকার অর্ধেক মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
সিংদেও স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী না করে অন্য কোনও পদ দিলে তিনি রাজি হবেন না। মুখ্যমন্ত্রী না হলে তিনি হয়তো কংগ্রেস ছেড়ে দিতে পারেন। কারণ বাগেল সরকারের অধীনে তিনি আর কাজ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, কংগ্রেস ছাড়লেও বিজেপিতে যোগ দেবেন না।
ছত্তিসগড়ে বিধানসভা ভোটে জিতে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সিংদেও বাদে ওই পদের দাবিদার ছিলেন তামারধ্বজ সাহু। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হন বাঘেল। কিন্তু সিংদেও এবং সাহু, দু'জনকেই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। পরে রাহুল গান্ধী টুইটারে ছত্তিসগড়ের নেতাদের ছবি দিয়ে লেখেন, 'কেউ যতই বুদ্ধিমান হন না কেন, একা যদি কোনও টিমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যান, নিশ্চয় হেরে যাবেন'।