
শেষ আপডেট: 10 October 2023 00:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কামদুনি গণধর্ষণ কাণ্ডে রায়ের দিন হাইকোর্ট চত্বরে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল মৌসুমী কয়াল, টুম্পা কয়লাদের। হাইকোর্টের নির্দেশের পর সোমবার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে মুক্তি পেলেন কামদুনি কাণ্ডের চার অভিযুক্ত। খবর পেতেই ফের কান্নায় ভেঙে পড়লেন টুম্পারা!
২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় গত শুক্রবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। সেই রায়ে বলা হয়, নিম্ন আদালতে যাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা রদ করা হচ্ছে। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত তিনজন অভিযুক্তর মধ্যে একজনকে আবার বেকসুর খালাস করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বাকি দু'জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, যেসব অভিযুক্তদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল নগর দায়রা আদালত, সেই তিন অভিযুক্তকেও বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।
সেই রায় সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যে। আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কামদুনি আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা মৌসুমী কয়াল, টুম্পা কয়ালরা। অসুস্থ হয়ে পড়েন মৃতার ভাই। এদিন মৌসুমীরা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখাও করেন।
এদিকে, সোমবারই হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ জুন পরীক্ষা দিয়ে কামদুনির বাড়িতে ফিরছিলেন রাজারহাট ডিরোজিও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটি। অভিযোগ, বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে রাস্তা থেকে জোর করে পাঁচিল ঘেরা একটি ঘরে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সেখানেই দফায় দফায় চলে গণধর্ষণ। এই ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে পায় সিআইডি।
তদন্তে নেমে সিআইডি আটজনকে গ্রেফতার করে। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তাদের মধ্যে ছ'জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়। তিনজনকে ফাঁসি ও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। হাইকোর্টে সেই নির্দেশ খারিজ হয়ে যায়। তারপর সোমবার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে বের হন চার অভিযুক্ত।