দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার খবর এসেছিল, বিক্ষোভ থামাতে শূন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ। রাত না পেরোতেই খবর এল, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই বিক্ষোভকারী। ম্যাঙ্গালোরের এই ঘটনায় চরম অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ভারত জুড়ে।
জরুরি অবস্থা এখনও জারি হয়নি সরকারি ভাব। কিন্তু নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সারা ভারত জুড়ে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি চলছে, তা কোনও ভাবেই জরুরি অবস্থার চেয়ে কম বিপজ্জনক নয় আর। উত্তর-পূর্ব ভারতে শুরু হওয়া প্রতিবাদ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আগুনের মতো। গত সপ্তাহে অসমে কমপক্ষে পাঁচ জনের মৃত্যু হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার দেশের দুই প্রান্তে তিন জন নিহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। ম্যাঙ্গালোর ছাড়াও লখনউ থেকে এসেছে এক বিক্ষোভকারীর নিহত হওয়ার খবর। আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিওয় দেখা গেছে, ম্যাঙ্গালোরের চার পুলিশকর্মী বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে। তার পরেই তাদের গুলি চালাতেও দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা খুব বেশি দূরে ছিল না। তখনই গুলি লেগে দু'জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা।
গতকাল থেকেই ম্যাঙ্গালোরের পাঁচটি থানা এলাকায় জারি ছিল কার্ফু। তার মধ্যেই বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলছিল। শেষে এই চরম ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বাড়ানো হয়েছে কার্ফুর সময়সীমা। মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত করার আদেশ দেওয়া হয়।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না বেরিয়ে যায়, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের গুলিতে দু'জনের মৃত্যুর পরে বিক্ষোভ যে আর কোনও বাধ মানছে না, তা বলাই বাহুল্য।

শুধু ম্যাঙ্গালোর নয়, দক্ষিণের হুব্বালি, কালাবুরাগি, হাসসান, মাইসোর, বল্লারি ও বেঙ্গালুরুতে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দমন করেছে পুলিশ। কর্নাটকের মানুষের অভিযোগ, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বেঙ্গালুরুতেই বিক্ষোভ দেখানোয় ১০০-র উপর বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ-তেও বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন এক জন। অভিযোগ, একটি পুলিশ চৌকির সামনে দাঁড়ানো ছিল বেশ কয়েকটি গাড়ি। তাতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পথসভা করার সময় এলোপাথাড়ি ভাবে পাথর ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চলে ব্যাপক লাঠিচার্জও। চলে গুলি। নিহত হন এক জন।

সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটকের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি কার্যতর অবরুদ্ধ। প্রায় সমস্ত রাজ্যেই বিক্ষোভের অনুমতি তুলে নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তার পরেও উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, কর্ণাটক এবং মধ্য প্রদেশে বিক্ষোভ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সে কারণেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে দাবি করা হয়েছে।