দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলের শৌচাগারে পড়ে রয়েছে এক যুবকের দেহ। ক্ষতবিক্ষত শরীর, গলায় গভীর কাটা দাগ। সেখান থেকে বার হওয়া রক্তের ধারা শুকিয়ে জমাট হয়ে রয়েছে চারপাশে। মৃতদেহের পাশে পড়ে রয়েছে একটি রক্তমাখা ছুরি। শুক্রবার রাতে এমন ঘটনা দেখে শিউড়ে উঠলেন নিউ মার্কেট থানার পুলিশ কর্তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হর্ষ বালানি। বয়স ২৪ বছর। গুজরাতের রাজকোটের বাসিন্দা হর্ষ জামশেদপুরের একটি নামী কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্ট পাশ করেছেন। বেশ কিছুদিন অ্যাপ ক্যাব সংস্থা উবার-এ চাকরিও করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকার পিয়ারলেস ইন হোটেলে ওঠেন হর্ষ। পাঁচ তলার একটি ঘরে একাই ছিলেন তিনি। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন হোটেলে ওঠার পর থেকে মাত্র একবারই দেখা গেছিল হর্ষকে। শুক্রবার সারাদিন ঘরেই দরজা বন্ধ করে ছিলেন তিনি। রুম সার্ভিসের জন্য সন্ধের দিকে হোটেল কর্মীরা ডাকাডাকি করলেও সাড়া দেননি। সন্দেহ হওয়ায় ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে হোটেল কর্মীরা দেখেন শৌচাগারের কাছ থেকে রক্তের ধারা বেরিয়ে ঘরের কার্পেটে এসে মিশেছে। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় শৌচাগারের ধারেই পড়ে রয়েছেন হর্ষ। সন্ত্রস্ত হোটেল কর্মীরা খবর দেন নিউ মার্কেট থানায়। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রক্তমাখা ছুরি ও গলায় গভীর কাটা দাগ কী আত্মহত্যার চেষ্টা, নাকি খুন করা হয়েছে যুবককে সেই ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কলকাতায় কারওর সঙ্গে দেখা করতেই এসেছিলেন হর্ষ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী মাত্র একবারই ঘর থেকে বার হতে দেখা গেছিল তাঁকে, শুক্রবার সারাদিন ঘরেই ছিলেন তিনি। সেই সময় কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের কথায়, কলকাতায় ঠিক কার কার সঙ্গে পরিচয় ছিল যুবকের সেটা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁর ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করছেন অফিসাররা। আত্মহত্যার প্ররোচনা বা প্রেম ঘটিত কোনও কারণ রয়েছে কি না সেটাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।