দ্য ওয়াল ব্যুরো: বার্সেলোনার হলটা কী! সেই ছন্দ উধাও, নেই সেই বিপক্ষকে কাবু করার প্রয়াস। দলের মহাতারকারাও কেমন ম্রিয়মান।
না হলে লা লিগার ম্যাচে স্পেনের ক্যাডিজের মতো প্রতিপক্ষের কাছে মেসিরা হারলেন ২-১ গোলে। স্পেনের বাইরে এই ক্লাবের নাম শুনেছেন হাতে গোনা মানুষ থাকবেন, কিন্তু সেই দলের কাছে হারের পরে নানা সমালোচনা হচ্ছে বার্সেলোনার।
এমন একটি দলের কাছে তারা হারল, যে দলটি গত মরসুমে প্রথম ডিভিশন থেকে প্রিমিয়ার ডিভিশনে উঠেছে। লা লিগায় এসেই একের পর এক বাজিমাত করছে ক্লাবটি। ক্যাডিজের মত দলের কাছে পরাজয়ের পরেই বোঝা যাচ্ছে, বার্সার সমস্যা বেশ গভীর। গত ম্যাচে ওসাসুনার কাছে চার গোলে জয় পাওয়ার পরে সবাই মনে করেছিল মেসিরা এই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতবেন। কিন্তু তা আর হল কোথায়!
এমনকি এই ম্যাচের আগে সবাই ধরে নিয়েছিলেন মেসি এই খেলায় দুটি গোল করতে পারলেই তিনি এককভাবে একটি দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হতেন, তাও সেটি পেলের মতো ফুটবল সম্রাটকে টপকে, তাও হল না।
ওসাসুনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতে আসার পর এবারের মরসুমে প্রথমবারের মত পয়েন্ট তালিকায় ১০-এর মধ্যে প্রবেশ করেছিল তারা। এবার ক্যাডিজের কাছে পরাজয়ের ফলে অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়। যদিও তাদের অবস্থান বর্তমানে সাত নম্বরে। ১০ ম্যাচ শেষে জয় মাত্র ৪টিতে। ড্র ২টি এবং বাকি ৪টিতে পরাজয়। পয়েন্ট মাত্র ১৪। অথচ, বার্সাকে হারিয়ে ক্যাডিজ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন অবস্থান করছে পঞ্চম স্থানে।
চোটের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি। যদিও সেই ম্যাচে মেসিকে ছাড়াই জিতেছিল বার্সা। তবে ক্যাডিজের বিপক্ষে রোনাল্ড কোম্যানের একাদশে ঠিকই ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু মেসির ফিরে আসাটা ক্যাডিজের মাঠে মোটেও বার্সাকে উদ্দীপ্ত করতে পারেনি।
তার থেকেও বড় বিষয়, এই ম্যাচে মেসিরা কোনও গোলই করতে পারেননি। কারণ বার্সার পক্ষে যে গোলটি হয়েছে, তা বিপক্ষের আত্মঘাতী গোল হিসেবে। খেলার আট মিনিটে বার্সেলোনার পক্ষে বড় ভুল করে বসেন আলভারো জিমেনেজ। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বল হাতের তালু দিয়ে ঠেলে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক অ্যান্ডার টার স্টেগান। শেষে সেই বলটি চলে যায় জিমেনেজের কাছে। আলতো টোকায় বার্সার জালে বলটি জড়িয়ে দেন তিনি।
এই গোলের পরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগই খুব একটা তৈরি করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন কোচ কোম্যান। অস্কার মিঙ্গুয়েজের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় পেদ্রোকে। ফিলিপ কুটিনহোর পরিবর্তে আনা হয় ওসমান ডেম্বেলেকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বল দখল, পজেশন, সবেতেই উজ্জ্বল ছিলেন মেসিরা। জর্ডি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে যান মেসি। তিনি শট নিলে পেদ্রো ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালে বল জড়িয়ে দেন। কিন্তু আবারও ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছে ক্যাডিজ। তাদের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন আলভেরো নেগ্রোদো। ওইসময়ও বার্সার রক্ষণভাগের ফুটবলাররা নিজেদের পজিশনে ছিলেন না।