
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 February 2025 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিস্থিতি যা, তাতে পড়শি মুলুককে শুধু হাতে নয়, ভাতেও মেরেছে ভারত। গত পরশু টিম ইন্ডিয়ার কাছে হেরে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জার্নি কার্যত শেষ হয়ে যায়। গতকাল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের জয় সমস্ত ‘যদি-তবু-কিন্তু'-র পালা চুকিয়ে পাকিস্তানের আশা-ভরসার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছে।অঙ্কের হিসেবেই এবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছুটি নিয়েছেন বাবর আজমরা।
২৯ বছর লম্বা সময়৷ আর ঠিক এত বছর বাদেই বড়মাপের আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের বরাত পেয়েছিল পাকিস্তান। শেষবার ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজিত হয়। তারপর সন্ত্রাস, নাশকতা সংক্রান্ত নানান কারণ, রাজনৈতিক টালবাহানায় বহুদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বসানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে পাকিস্তান।
এবার তাদের সামনে সুযোগ ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল—নিদেনপক্ষে সেমি ফাইনালে উঠে নিজেদের ইমেজকে নতুনভাবে তুলে ধরা, ব্র্যান্ড ভ্যালুকে আবার চড়ায় নিয়ে যাওয়া। পাক ক্রিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন ও বিপণন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার মতে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় তাদের খাদের কিনারায় টেনে এনেছে। ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে তিন স্টেডিয়াম মেরামত করে আর্থিকভাবে ব্যাকফুটে রয়েছে পিসিবি। সেখানে টুর্নামেন্ট থেকে আগাম বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ধাক্কা খেয়েছে ক্রিকেট টিমের ইমেজ। সম্প্রচারকারী চ্যানেল যেভাবে হাফ-খালি স্টেডিয়ামকে টিভি স্ক্রিনে দেখাচ্ছে, ম্যাচের টিকিট বিক্রি কমতে শুরু করেছে, মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে—এটা আগামি দিনে পাক ক্রিকেটের পক্ষে দুর্যোগের সংকেত বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
পাক ক্রিকেট বোর্ডেরই এক কর্তার আশঙ্কা, ক্রিকেট নিয়ে পাকিস্তানে উচ্ছ্বাস, আগ্রহ থাকলেও ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্সে দলের ও দেশের ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ ধাক্কা খেয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। যথেষ্ট ক্ষমতাশালী। তাই প্রথম সারির মিডিয়া কিংবা দুঁদে ক্রিকেটারদের কেউই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ না খুললেও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ইতিমধ্যে নাকভির নামে তোপ দেগেছে। দেশের স্টেডিয়ামের উন্নতির পেছনেই টাকা ঢেলেছেন তিনি, দলের খেলোয়াড়দের উন্নতির কথা ভাবেননি—উঠতে শুরু করেছে একগুচ্ছ অনুযোগ, অভিযোগ।
পাকিস্তানের বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত মুখ তাহির রেজা। তাঁর দাবি, ‘এটা বলা সহজ যে, পাকিস্তানে ক্রিকেটের নামেই টিকিট বিক্রি হয়। কিন্তু সবসময় এটা সত্যি নয়। কারণ, সমর্থক, স্পনসরদের আগ্রহ ও আসক্তি মিশে থাকে দলের পারফরম্যান্সের উপরেও।‘
আর এখানেই কোপ মেরেছেন বিরাটরা। পাক ক্রিকেট টিমের শতচ্ছিন্ন অবস্থা দুনিয়ার সামনে বে-আব্রু করেছে টিম ইন্ডিয়া। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং--তিনটি বিভাগেই বাবর আজমরা কতটা পিছিয়ে, সেটা হাতেগরম তুলে ধরেছেন বিরাট, রোহিতরা। ভারতের ভ্যালু বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও মারাত্মক হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের কদর কমে যাওয়া। এটা আগামি দিনে বিজ্ঞাপন থেকে বিপণন, সম্প্রচার থেকে টুর্নামেন্ট আয়োজন--সর্বত্র ছাপ ফেলতে চলেছে। এরই নিট ফল হিসেবে ভবিষ্যতে বড় মাপের আর্থিক বোঝার চাপ মাথায় নেমে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।