
শেষ আপডেট: 11 December 2020 18:30
বিকেলবেলায় কুয়াশার মধ্যে আবছা আলোয় দূর থেকেই দেখতে পেয়েছিলেন দুই বন্ধু। তারপর ধীরে ধীরে কাছে আসতেই নড়েচড়ে বসলেন বোটের বাকি সদস্যরা। ঠিক তো, এ যে বাঘ! একজন বলছেন, "তাড়াতাড়ি বোট চালাও। আমাদের দিকে চলে আসতে পারে।" অন্যদিকে একজন বলছেন, "অপেক্ষা কর। আরও কাছ থেকে দেখি বাঘটাকে।" সবমিলিয়ে এক হইহই কাণ্ড সেদিন বিকেলে। ঘুরতে গিয়ে প্রথমদিনই যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাবেন, সেটা তাঁরা ভাবতেই পারেননি। তাই আনন্দে আত্মহারা প্রত্যেকে।
বারুইপুরের আমতলা এলাকা থেকে ১৯ জন মিলে দুদিনের জন্য সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন। শনিবার সকালে পৌঁছানোর পর, সেদিন বিকেলে বোটে বসে আরাম করে সময় কাটাচ্ছিলেন প্রত্যেকে। বিকেল হতেই আশপাশ ফের কুয়াশায় ঢেকে যায়। তখনই পাড়ের কাছে বোট আসতেই দূর থেকে লক্ষ্য করেন বাঘটাকে। সুন্দরবনের সুধন্যখালি জঙ্গলে পৌঁছাতেই, প্রথমদিন আচমকা বাঘ দেখতে পেয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন পর্যটকেরা।
দীর্ঘদিন লকডাউনের জন্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে অনেকেই ঘুরতে যেতে পারেন নি। শীত পড়লেই যে সুন্দরবনে পর্যটকদের উপচে-পড়া ভীড় দেখা যায়, সেখানেই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের সংখ্যা বেশ কম। অনেকেই বলেন ভীড়ের কারণে, আওয়াজ পেয়েই বন্য জীবযন্তুরা একটু দূরে সরে যায়। অনেকেরই মনে হয়েছে এত ফাঁকা এবছর, তাই হয়তো দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। বলাই বাহুল্য ভ্রমণে এসে বাঘের দেখা পেয়েই কতটা খুশি হয়েছেন পর্যটক দলের সদস্যরা, সেটা অনুমান করতে পারছেন কেবল ভ্রমণপিপাসুরা।