দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজের ফাঁকে পাওয়ার ন্যাপ অনেকেই নেন। শোনা যায়, প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলেন, তখন দুপুরে খাওয়ার পর আড়াইটে তিনটে নাগাদ একটা আধ ঘণ্টার পাওয়ার ন্যাপ নিতেন। সংসদের অধিবেশন চললে সেই সুযোগ কম হত। কিন্তু সে ছাড়া এই রুটিন ছিল বাঁধা ধরা। ঘনিষ্ঠদের উনি বলতেন, ‘এই যে ঘুমিয়ে নিলাম, রাত ২টো পর্যন্ত আর ঘুম আসবে না’। ব্যাপারটা ষোলআনা সত্যি। কারণ রাত ১টা পর্যন্ত বাড়ির অফিসে উনি কাজ করতেন। নেতাদের সঙ্গে দরকারে বৈঠক করতেন। তার পর স্নান করে খেয়ে ঘুমোতে যেতেন।
এই যে দুপুর হলেই দু'চোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসে তা ভাল নাকি মন্দ সে নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কেউ বলেন দিবানিদ্রা একেবারে ভাল নয়, আবার কারও মত দুপুরে খাওয়ার পরে বা কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণের জন্য ন্যাপ নেওয়া মোটেই মন্দ নয়। বাড়িতে থাকলে ভাতঘুম (Nap) দিতেই মন চায়। বাঙালি তো আবার ভাতঘুম ছাড়া ভাবতেই পারে না। ওদিকে অফিসে লাঞ্চের পরেই চোখ জুড়ে একরাশ ঘুম নেমে আসে। শরীরে যেন এলিয়ে পড়তে চায়। একটু জমাটি লাঞ্চ হলে তো কথাই নেই, তখন বড়বড় চোখে চেয়ে কাজে মন দেওয়াটা দুঃস্বপ্নের মতো। অফিসে বসের নজর এড়িয়ে পাওয়ার ন্যাপ দিতে গিয়ে কতজন যে হুঙ্কারের মুখে পড়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।
কিন্তু আর না। এখন মাথা উঁচু করে সগর্বে জানিয়ে দিন দিবানিদ্রা মোটেও খারাপ নয়। পাওয়ার ন্যাপ তো শরীরের মেডিসিনের মতো। তার যে কত উপকারিতা তা ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছেন গবেষকরা। তবে হ্যাঁ ন্যাপটা যেন ন্যাপের মতোই থাকে। বাড়িতে ভাতঘুম দিতে গিয়ে সেটা যদি কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যায় তাহলে খারাপ। ন্যাপ ভাল, কতটা দিচ্ছেন তার ওপরে সবটা নির্ভর করছে।
কাজের ফাঁকে আলতো ঘুম
ন্যাপ মানে ঠিক ঘুম নয়, ওই ঘুমের জাতভাই আর কী! কয়েক মিনিটের জন্য একটু ঝিমুনি। আর তাতেই শরীরে এনার্জির হাওয়া বাতাস খেলে। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। সময় ধরে যদি পাওয়ার ন্যাপ নেওয়া যায় তাহলেই নিমেষে শরীর-মন চাঙ্গা। বেড়ে যায় কর্মদক্ষতা, স্মৃতিশক্তি। ইনসমনিয়া বা কম ঘুমের সমস্যায় ভোগেন যাঁরা, তাঁদের জন্য পাওয়ার ন্যাপ তো মহৌষধির মতো।

গবেষকরা বলেন, ঘুম কম হলে আমাদের শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনর প্রভাবে বেড়ে যায় মানসিক চাপ। দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য হলেও যদি ন্যাপ নেওয়া যায়, তাহলে কর্টিসলের ক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে স্ট্রেস কমে যায়।

একটানা কাজের ফাঁকে হাল্কা ন্যাপ নিলে একঘেয়েমি কাটে। একাগ্রতা বাড়ে, সৃজনশীলতাও। আরও বেশি করে কাজে মন দেওয়া যায়, উদ্যম ও উৎসাহ দুই বাড়ে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নিলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এক ঘণ্টা ন্যাপ নিলে অনেক বেশি মনে রাখা যায়।
পাওয়ার ন্যাপের আরও উপকারিতা আছে—নজরদারি করার ক্ষমতা বাড়ে, পঞ্চইন্দ্রিয় সজাগ ও সক্রিয় হয়, উচ্চ রক্তচাপও বশে থাকে।
কতক্ষণ ন্যাপ দেব?
ক্লান্তি কাটিয়ে চাঙ্গা হওয়ার জন্য ২০ থেকে ২৫ মিনিটের ভাতঘুম আদর্শ। অনেকেই কাজের ফাঁকে টুক করে ২০ মিনিটের একটি বিরতি নিয়ে ঘুমিয়ে নেন। কিন্তু লম্বা ভাতঘুম দিতে গেলেই মুশকিল। সেটাই যত নষ্টের গোড়া। ২৫ মিনিটের বেশি যদি ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে ওঠার পর আরও ক্লান্ত লাগবে, আরও বেশি ঘুম পাবে এবং কাজে কিছুতেই মন বসবে না। দীর্ঘক্ষণ ন্যাপ দিলে অনেকে আবার স্লিপ ইনারশিয়ায় ভোগেন। দিনে বেশি ঘুমোলে রাতে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না।
সতর্কতা ও এনার্জি বাড়ানোর জন্য ১০ থেকে ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ আদর্শ। ঘুম থেকে ওঠা সহজ হয় এবং স্ট্যামিনাও বাড়ে।
ঘটনা, চেহারা ও নাম মনে রাখার জন্য এই ৬০ মিনিটের ন্যাপ সবচেয়ে উপকারী। যদিও ঘুম ভাঙার পর একটু অলস লাগে।
কাজেই ভাতঘুম দিন, অফিসে ছোট ন্যাপও নিন, তবে সময় ধরে। এতে সবদিকই বহাল থাকবে, নাক ডাকিয়ে লম্বা ঘুম না হয় রাতের জন্যই তোলা থাক।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'