
শেষ আপডেট: 5 December 2020 18:30
মালালা নিজে অনুভব করেছেন মেয়েদের শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা। তাই মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে তিনি লড়াই শুরু করেন। মালালা বলেন, "পড়াশোনা করতে পাওয়ার সুযোগ জীবনের একটা আশীর্বাদের মতো। জীবনে লেখাপড়ার অপরিসীম গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ১৭ বছর বয়সেই আমার মধ্যে এই উপলব্ধি এসেছে। আমি সবসময় নতুন জিনিসের অনুসন্ধান করেছি। আমার মনে আছে, আমি ও আমার বন্ধু একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে হাতে মেহেন্দি লাগাতাম, তখন চেষ্টা করতাম ফুল বা অন্য নকশার বদলে অঙ্কের সূত্রগুলোকে ডিজাইনের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে।"
এর পাশাপাশি মালালা নিজের আরও অনেক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন সকলের সঙ্গে। তিনি বলেন, "আমি যখন সোয়াতে বড় হয়েছি, তখন সোয়াতের পরিবেশ একেবারে আলাদা ছিল। তখন এখানে অনেক পর্যটক বেড়াতে আসতেন। কিন্তু তারপরেই হঠাৎ করে জায়গাটা সন্ত্রাসবাদীদের আখড়াতে পরিণত হয়। আমার যখম ১০ বছর বয়স, আমি তখন ৪০০র বেশি স্কুল ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছি। মেয়েদের ওপর সেইসময় থেকেই শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। আমাদের সকলের সুন্দর স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। মেয়েদের কাছ থেকে পড়াশোনা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এক ধাক্কাতে আমার গোটা পৃথিবী বদলে যায়, বদলে যায় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও। আমার হাতে সেসময় দুটো পথ ছিল। প্রথমত আমি চুপ করে অপেক্ষা করতে পারি মৃত্যুর। অথবা, আমি পারি নিজের কথা বলতে, প্রতিবাদ করতে। তারপর আমাকে যদি ওরা মেরে ফেলে তো ফেলবে! আমি সেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছি। প্রতিবাদ করেছি।"
তিনি এই আশা নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন যে পড়াশোনার জন্য যেন আর কোনও মেয়েকে লড়াই করতে না হয়। মালালা স্বপ্ন দেখেন এমন এক পৃথিবীর, যেখানে পড়াশোনার অধিকার সকলেই পাবে।