
শেষ আপডেট: 26 December 2023 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহ দুই আগেও বাংলাদেশের ভোটে অন্যতম আলোচ্য ছিল আওয়ামী লিগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এপারে যাঁদের নির্দল বলা হয় অপারে তারাই স্বতন্ত্র।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তের প্রভাব যাতে নির্বাচনী লড়াইকে লঘু করে না দেয় সেজন্যই শাসক দল নৌকা প্রতীকে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পার্টির নেতাদের স্বতন্ত্র হিসাবে লড়াইয়ের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার কথায়, বিনা লড়াইয়ে জয় চান না তিনি। আওয়ামী লিগের প্রার্থীদের লড়াই করেই জিতে আসতে হবে।
সে দেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের তিনশো আসনে এবার মোট প্রার্থী ১৮৯৫জন। তাঁদের মধ্যে ৩৮২ জনস্বতন্ত্র প্রার্থী। অর্থাৎ আওয়ামী লিগের নেতা-মন্ত্রীরা ছাড়াও আরও অনেকে বরাবরের মতো নির্দল হিসাবে লড়াইয়ে আছেন। তবে যত আলোচনা আওয়ামীর স্বতন্ত্র তথা নির্দলদের নিয়েই। শেখ হাসিনার দল যে আসনগুলি শরিক দলগুলিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লিগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাঁটা থেকে তাঁরাও রেহাই পাচ্ছেন না।
নৌকা প্রতীকে লড়াইয়ে আছেন দুই প্রবীণ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন। তাঁরা ছাড়াও আরও চারটি আসনে নৌকা প্রতীকেই লড়াই করছেন শরিক দলের নেতারা। ছয় আসনেই আছেন হাসিনার দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ফলে ইনু, মেননের মতো নেতাদের আর সংসদে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তবে আওয়ামী লিগের সরকারি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঈগল। ৩৮২ স্বতন্ত্র পার্থীর ১৫২ জনেরই প্রতীক এই শিকারি পাখি। ঈগল ছাড়াও স্বতন্ত্র পার্থীদের জন্য আরও ২৪টি প্রতীক বরাদ্দ আছে। এছাড়া ৪৪টি রেজিস্টার্ড দলের নিজস্ব প্রতীক আছে। এবার দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ স্বতন্ত্র পার্থী ঈগল প্রতীক চেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ১৫২ জন ওই প্রতীক পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঈগল নতুন প্রতীক নয়। আগে থেকেই ছিল। তাছাড়া তালিকায় সোফা, স্টিলের আলমারি, ইমার্জেন্সি বাতি, মোড়া, দোলনা, বাঁশির মতো সহজে আঁকা যায় এমন প্রতীক আছে। তুলনায় ঈগল আঁকা কঠিন।
স্বভাবতই চর্চা শুরু হয়েছে, এবার কেন এত প্রার্থী শিকারি পাখিকে প্রতীক হিসাবে বেছে নিলেন। দেখা যাচ্ছে, ঈগল প্রতীক পাওয়া ১৫২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নব্বই-পঁচানব্বই শতাংশই আওয়ামী লিগের প্রার্থী।
কারণ হিসাবে সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় সবচেয়ে জোরালো ভাবে উঠে এসে একটি বার্তা। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সচেতনভাবেই আওয়ামী লিগের স্বতন্ত্ররা এই প্রতীক বেছেছেন। তাঁরা আসনে তাঁদের শক্তি, ক্ষমতাকে তুলে ধরতেই ওই শিকারি পাখিকে প্রতীক করেছেন।
ঈগল শুধু শিখারি পাখি নয় বহু দূর থেকে সে নিশানা করতে পারে। আওয়ামী লিগের স্বতন্ত্র পার্থীরা বোঝাতে চাইছেন দল তাঁদের নৌকা প্রতীকে লড়াইয়ের সুযোগ না দিলেও পার্টিতে এবং রাজনীতিতে ব্রাত্য নন। ঈগলের মতো ছো মেরে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ধরেন তাঁরা।
এই ব্যাপারে স্বতন্ত্র পার্থীদের অনেকেই মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে বরিশালের আওয়ামী লিগ নেতা পঙ্কজ দেবনাথ সামাজিক মাধ্যমের আলোচনাতেই সায় দিয়েছেন। তিনি বরিশাল-চার আসন থেকে গতবার জিতে সংসদে যান। এবার দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। তিনি স্বতন্ত্র পার্থী হিসাবে লড়াই করছেন। তাঁর কথায়, ‘ঈগল সাধারণত নিশানা মিস করে না। সেই কারণেই ঈগল বেছে নেওয়া।’
ঈগল প্রতীকে হবিগঞ্জ-চার আসন থেকে লড়াই করছেন আওয়ামী লিগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। শিকারি পাখিকে প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ প্রতীকের মধ্যে ঈগলই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ভোটের লড়াইয়ে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।