Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'এটা কাটতে পারব না', জাতীয় পতাকার রঙের ফিতে দেখে পিছু হটলেন ওমর, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় নেটপাড়া‘সবচেয়ে অসুখী বোধ করছিলাম, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায় পুকুর চুরির মতো ব্যাপার ঘটছিল বলে’প্রকাশিত সিবিএসই দশম শ্রেণির ফলাফল! পাশের হারে ছেলেদের টেক্কা মেয়েদের, শীর্ষে কোন শহর? নববর্ষে পারিবারিক সেলিব্রেশন, তার মাঝেই ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির প্রার্থনা অপরাজিতারনববর্ষে রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তনের’ ডাক! ‘লাটসাহেব’কে নিয়ে ছেড়ে কথা বললেন না মমতাওস্যালাড খেলেই সুস্বাস্থ্য নয়! ভুলেও কাঁচা খাবেন না এই ৩ সবজি, কারণ জানুনইরানকে কি অস্ত্র দিচ্ছে চিন? শি জিনপিংয়ের চিঠির পর জল্পনা ওড়ালেন ট্রাম্প'দেশু ৭'-এ অনির্বাণ, এবার ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’য় কোন নায়কের এন্ট্রিতে চমক?এখনই সুরাহা নেই, রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর! দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার: সূত্রলোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?

ভারতের সামনে কানাডা দ্বিতীয় পাকিস্তান, ট্রুডো কেন স্বদেশে শিখ জঙ্গিদের মদত দিচ্ছেন

পাকিস্তানের ভারত বিরোধিতা, এ দেশের নাশকতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি কারও অজানা নয়। প্রশ্ন হল জাস্ট্রি ট্রুডোর খলিস্তানিদের সঙ্গে পিরিতের সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণ কী?

ভারতের সামনে কানাডা দ্বিতীয় পাকিস্তান, ট্রুডো কেন স্বদেশে শিখ জঙ্গিদের মদত দিচ্ছেন

শেষ আপডেট: 15 October 2024 12:43

অমল সরকার

কানাডায় ভারতের হাই কমিশনার সঞ্জয় কুমার বর্মা-সহ একাধিক কূটনীতিককে নয়া দিল্লি দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার আগে কানাডার ছয় কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

কূটনৈতিক বিবাদে আধিকারিক বহিষ্কার একটি প্রচলিত ব্যবস্থা। তবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার বা পদস্থ কূটনীতিকদের বহিষ্কারকে সম্পর্কের চরম অবনতি বলে মনে ধরা হয়। কানাডার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন ঠিক সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে নয়া দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিক এবং কূটনীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সম্পর্কে বৈরিতা চললেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কূটনীতিক প্রত্যাহার বা বর্জনের বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তানের সঙ্গে তো সেই ২০১৯ থেকে বলতে গেলে কোনও সম্পর্কই নেই, শুধু দূতাবাস চালু রাখা ছাড়া।

সেখানে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে বলা চলে। কানাডার সরকারি সুত্রের খবর সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার পথে এগচ্ছেন। আগামীকাল বুধবার তিনি ফরেন ইন্টারফেয়ারেন্স কমিশনের সামনে হাজির হচ্ছেন। তাঁর এক মন্ত্রীও এই কমিশনের সামনে নিজের বক্তব্য হাজির করেছেন।

ট্রুডো প্রশাসনের দাবি, খলিস্তানি জঙ্গি নিজ্জর সিং-কে হত্যায় সরাসরি অটোয়া অর্থাৎ কানাডার রাজধানীতে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন অফিস যুক্ত। তাদের নিযুক্ত এজেন্ট নিজ্জরকে হত্যা করেছে। ফরেন ইন্টারফেয়ারেন্স কমিশনের কাছে নিজ্জর হত্যার বিষয়টি পেশ করে কানাডা ভারতকে অপরাধী রাষ্ট্রের তকমা দিতে চাইছে।

কানাডায় একটি শিখ গুরুদ্বারের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে গত বছর জুনে। সেপ্টেম্বর মাসে ট্রুডো তাঁর দেশের সংসদে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেন, নিজ্জর হত্যা ভারতীয় এজেন্টের কাজ। তখনই অটোয়ার ভারতীয় হাই কমিশনের কয়েকজন কূটনীতিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা বিষয়ক আধিকারিকও ছিলেন। পাল্টা ভারত কানাডার বাসিন্দাদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করার পাশাপাশি ভারতীয়দের সে দেশে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বহিষ্কার করে কানাডার ৪০ কূটনীতিককে।

প্রশ্ন হল, বারো হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশের সঙ্গে ভারতের এমন তিক্ততার সম্পর্ক কেন হল? কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারত বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে কানাডা ক্রমশ আর একটি পাকিস্তান হয়ে উঠছে নয়া দিল্লির জন্য। আশ্চর্যের হল নিজ্জর হত্যায় ট্রুডো ভারতের দিকে আঙুল তুললেও খুনের তদন্তকারী সে দেশের সংস্থা রয়্যাল মাউন্টেড কানাডিয়ান পুলিশ এখনও ভারত যোগের কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। আদালতে পেশ করা চার্জশিটে ভারতীয় এজেন্টের যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

এর আগে নিরাপত্তা বিষয় পাঁচ দেশের মঞ্চ কোয়াডের সদস্য অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনকেও নিজ্জর হত্যায় ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করে ট্রুডো প্রশাসন। ভারতও কোয়াডের অন্যতম সদস্য। যদিও কোনও দেশই ট্রুডোর দেশের পেশ করা তথ্যপ্রমাণে সন্তুষ্ট হয়নি। শুধু মার্কিন প্রশাসন নয়া দিল্লিকে তদন্তে কানাডার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলে। জবাবে নয়া দিল্লি জানিয়েছে, ট্রডোর প্রশাসন অভিযোগ করলেও কোনও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি যে নিজ্জর হত্যায় ভারতের নিযুক্ত এজেন্ট জড়িত বা ভারতীয় দূতাবাসের যোগ ছিল।

প্রশ্ন হল নিজ্জর কে যাঁর জন্য জাস্টিন ট্রুডো ভারতের মতো বৃহৎ গণতন্ত্রের একটি দেশের সঙ্গে চূড়ান্ত সংঘাতের পথে হাঁটছেন? বছর চল্লিশের নিজ্জর বেশ কয়েক বছর আগে নথিপত্র জাল করে কানাডায় গিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নেয়। ভারত ছাড়ার আগে এ দেশের খুন-রাহাজানি-সহ একাধিক অপরাধে যুক্ত ছিল সে। খলিস্তান অর্থাৎ স্বাধীন পাঞ্জাবের দাবিদারদের হয়ে মূলত সন্ত্রাসমূলক কাজ এবং টাকা পয়সা তোলার কাজ করত নিহত ব্যক্তি। কানাডা থেকেই নিজ্জরের মতো বহু খলিস্তানি জঙ্গি ভারতে তোলাবাজির সিন্ডিকেট চালায়।

অতীতে খলিস্তানি জঙ্গিরা কানাডার মাটিতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ছিনতাই করে যাত্রীদের হত্যা করেছে। ভারতীয় দূতাবাসে হামলা বলতে গেলে রুটিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর করে খলিস্তানিরা। কানাডার একাধিক শহরে ভারতীয় দূতাবাসে ভাঙচুর চালায়। ভারতের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে খলিস্তানি পতাকা লাগানো হয় দূতাবাসে। খলিস্তান বিরোধী ভারতীয়দের মারধরের ঘটনা, মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই কানাডার পুলিশ লঘু ধারায় মামলা করেছে বলে অভিযোগ।

ভারতের অভিযোগ, কয়েক শো দাগি শিখ জঙ্গি এখন কানাডা সরকারের আশ্রয়ে আছে। সেখান থেকে অর্থ এবং আরও নানাভাবে তারা ভারতে খলিস্তানিদের মদত জুগিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অপরাধের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বা ডসিয়ার বারে বারে কানাডার হাতে তুলে দেওয়া হলেও ওই অপরাধীদের নয়াদিল্লির হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। তার মধ্যে খুন, মাদক ও মানব পাচার, অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য জাস্টিন ট্রুডোর কানাডা একেবারেই পাকিস্তানের কৌশল নিয়েছে। ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত বহু দাগি আসামি পাকিস্তানে নিরাপদে আছে। তাদের হস্তান্তরের দাবি বারে বারে খারিজ করেছে ইসলামাবাদ। তালিকায় আছে মুম্বইয়ে হামলার মাস্টার মাইন্ডেরাও।

পাকিস্তানের ভারত বিরোধিতা, এ দেশের নাশকতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি কারও  অজানা নয়। প্রশ্ন হল জাস্ট্রি ট্রুডোর খলিস্তানিদের সঙ্গে পিরিতের সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণ কী?

আসলে আগামী বছর ট্রুডোকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। পাঞ্জাবের পর কানাডাতেই সবচেয়ে বেশি শিখের বাস। যদিও সংখ্যায় তারা কানাডার জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশ, বা সাত লাখ সত্তর হাজারের কাছাকাছি। এই দুই শতাংশই কানাডার ঘরোয়া রাজনীতিতে অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
 
৩৪০ আসন বিশিষ্ট কানাডার সংসদে ট্রুডোর লিবারেল পার্টির দখলে আছে ১৬০ আসন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে ১০টি কম। সে দেশের সংসদের ৩৪০ আসনের ২০টির ভাগ্য নির্ধারিত হয় এশিয়দের ভোটে। তারমধ্যে ১৯টি-তে শেষ কথা শিখরা। ট্রুডো এই ১৯টি আসনকে পাখির চোখ করেছেন। আর তাঁর দেশের শিখদের সিংহভাগই খলিস্তানপন্থী এবং তারা প্রেরণা ও অর্থ জুগিয়ে ভারতীয় শিখদের ফের অস্ত্র হাতে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে উসকানি দিচ্ছে। স্বভাবতই কানাডায় শিখদের নাগরিকত্ব এবং প্রতিষ্ঠা পাওয়া তুলনায় অনেক সহজ। নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রুডোর বিচলিত হওয়ার পিছনে নির্বাচনী সমীকরণটিই আসল বলে সে দেশের রাজনৈতিক মহল ও মিডিয়ার একাংশের দাবি। যে কারণে কানাডার একাধিক বিরোধী দলও ট্রুডে়ার রাজনৈতিক স্বার্থে বিদেশ নীতি পরিবর্তন এবং ভারতের মতো বৃহৎ গণতন্ত্রের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়া নিয়ে আপত্তি তুলেছে।


```