
সেতুতে ধাক্কা পণ্যবাহী জাহাজ 'দালি'-র।
শেষ আপডেট: 26 March 2024 20:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও দৃশ্যটার ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেন না মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট। 'কখনও ভাবতেই পারিনি, বা অন্তত এরকম খালি চোখে দেখব ভাবিনি যে, ফ্রান্সিস স্কট কি ব্রিজ এইভাবে ধ্বসে পড়বে! এটা বাস্তব নাকি কোনও অ্যাকশন ছবির দৃশ্য? বিশ্বাস করতে পারছি না', বাল্টিমোর শহরের মেয়র দৃশ্যতই উত্তেজিতভাবে বলছিলেন সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিনিধিকে।
সোমবার গভীর রাতে প্রায় দেড়টা নাগাদ এক বিরাট পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাল্টিমোর বন্দর এলাকার খাঁড়ির ওপর পাট্যাপস্কো নদীর ওপরের সুবিশাল ফ্রান্সিস স্কট কি সেতু। অন্তত সাতটি গাড়ি সটান পড়ে যায় নদীতে, যদিও ঠিক কতজন এইভাবে নদীতে পড়ে যান, তার সঠিক তথ্য এখনও জানা যায়নি। উদ্ধারকারীরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন ভেঙে পড়া সেতুর আশেপাশের জলে। তাঁদের আশঙ্কা, অন্তত সাতজন এখনও জলে আটকে। উত্তর-পূর্ব আমেরিকার ঠাণ্ডায় ওই জলে কতক্ষণ আহতরা বেঁচে থাকবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনা হচ্ছে, গভীর রাতে যখন জাহাজের ধাক্কা লাগে, তখনই সেতুতে একাধিক নির্মাণকর্মী রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা সিএনএন। ফলে এখনও জল থেকে উদ্ধার না হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পথচারী বা যাত্রীর পাশাপাশি কতজন নির্মাণকর্মী আছেন, সেই নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। 'দালি' নামক এই দুর্ঘটনাগ্রস্থ জাহাজের নথিকরণ সিঙ্গাপুরের, যদিও মালিকানা বিখ্যাত ড্যানিশ সংস্থা মেরস্কের। প্রায় এক হাজার ফুট লম্বা এই পেল্লায় পণ্যবাহী জাহাজে এক লপ্তে দশ হাজার কুড়ি ফুটের কন্টেনার বোঝাই করা যায়। মার্কিন প্রশাসন ও বাল্টিমোরের পুলিশ জানিয়েছে, জাহাজের সমস্ত কর্মী ও নাবিক সুরক্ষিত আছেন।
যত সময় গড়াচ্ছে, উদ্ধারকাজ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। বাল্টিমোর কাউন্টির প্রশাসনিক আধিকারিক জনি ওলজেওস্কি বলেন, 'অবস্থা খুবই কঠিন। এই পুরো নদীটা আসলে বন্দর সংলগ্ন গভীর খাঁড়ি। জল এখানে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ফুট গভীর। তীব্র স্রোতের টানও আছে। এদিকে বেশ ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে, জলও অত্যন্ত শীতল। ফলে এখনও কেউ জলে রয়েছেন কিনা সেই নিয়ে আমরা গভীর চিন্তায় আছি।' পাশাপাশি, ট্র্যাফিক নিয়েও জোর ভাবনায় পুলিশ। সেতুটি প্রায় দেড় মাইল লম্বা, বাল্টিমোর বন্দর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। মেয়র স্কট বলছেন, আগামী একমাস এই রাস্তার ট্র্যাফিক কোন পথে যাবে, আপাতত সেই নিয়েই হিমশিম অবস্থা তাঁদের।