
শেষ আপডেট: 24 April 2024 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেগন্যান্সিতে ক্লান্তি, সারা দিন ঘুম পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এই সময় নানারকম লক্ষণ ফুটে উঠতে থাকে মহিলাদের শরীরে। একজন গর্ভবতী মা প্রেগন্যান্সির প্রথম ত্রৈমাসিকে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, মর্নিং সিকনেস ও অন্যান্য হরমোনাল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যান। ত্বক ও চুলের সমস্যাও দেখা দিতে থাকে অনেকের। কিন্তু গর্ভাবস্থায় দ্রুত বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা দিতে থাকে? নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেইলম্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি সমীক্ষা এমনই দাবি করেছে। গবেষকদের দাবি গর্ভাবস্থা বার্ধ্যকের প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সে প্রকাশিত এই গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, যে মহিলারা গর্ভবতী হয়েছেন তাঁদের শরীরে বার্ধ্যকের লক্ষণ, যাঁরা গর্ভবতী হননি তাঁদের থেকে বেশি। সেবু লংগিটুডিনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভের একটি টিম ফিলিপিন্সের ১৭৩৫ গর্ভবতী মহিলার উপর সমীক্ষা চালিয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে এই গবেষণা শুরু হয়েছে। গবেষকরা দাবি করছেন, ওই মহিলাদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাঁদের সকলেরই রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যেক জনের মেডিক্যাল হিস্ট্রি, যৌন জীবন, তাঁদের পরিবার, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, আর্থিক পরিস্থিতি ইত্যাদি সবই পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেখা গেছে, এই মহিলাদের মধ্যে যাঁরা অন্তত একবার গর্ভবতী হয়েছেন তাঁদের শরীরে বয়স বাড়ার লক্ষণ আগে ফুটে উঠেছে। যাঁদের দুটি সন্তান তাঁদের সেইসব লক্ষণ আরও বেশি। চেহারায়, কথাবার্তায়, ভাবভঙ্গিতে তাঁদের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিপক্ক মনে হয়েছে। এমনকী, ত্বক, চুল ও চেহারাতেও সে ছাপ ফুটে উঠেছে।
দিল্লির ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গাইলোকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অনুরাধা কাপুর বলছেন, এজিং মানে হল সেলুলার এজিং, অর্থাৎ কোষের বয়স বাড়ছে। সেই সঙ্গে শরীরে হরমোনের নানা বদল আসতে থাকে। এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাওয়ার অভ্যাস, নেশার প্রকোপ, কম ঘুম ইত্যাদি নানা কারণে সময়ের আগেই যেন বয়স অনেকটা বেড়ে গেছে মনে হয়। সেই সঙ্গে রয়েছে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ। এখনকার প্রজন্মের অল্প বয়স থেকেই ত্বকে বলিরেখা পড়ছে, ত্বক জেল্লা হারাচ্ছে, শরীরের জোর কমছে, নানা রোগ বাসা বাঁধছে। অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ছে কম বয়স থেকেই।
ডাক্তারবাবু বলছেন, গর্ভাবস্থায় বয়স কতটা বাড়ছে সেটা এখনও গবেষণার স্তরেই আছে। গবেষকরা দেখেছেন যে এক গর্ভবতী মহিলা তার প্রেগন্যান্সির জার্নির পরে অনেক বেশি শরীরে-মনে পরিণত হন। এমনকী চেহারাতেও তার ছাপ পড়ে। গর্ভাবস্থার আগে তাকে যেমন দেখতে লাগত, সন্তান প্রসবের পরে অন্তত বছর দুয়েক বয়স বেশি লাগে। কেন সেটা হয় তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। হতেই পারে সেটা হরমোনের বদলের জন্য।
দেখা গেছে, শরীরে ভ্রূণ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উদরের কিছু অংশ যেমন বড় হয় তেমনই এই সময় অনেকেরই নাকের ডগার আকার পাল্টাতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা বলেন, এই লক্ষণটি খুব সাধারণ না হলেও বিরল নয়। শুধু নাক নয়, শরীরের যেখানে যেখানে পেশি রয়েছে, সেখানেই এমন পরিবর্তন হতে পারে। সবটাই কিন্তু হরমোনের খেলা। নিজের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে যে ভ্রূণটি বড় হচ্ছে, তার কার্যকলাপ ঠিক রাখার জন্য রক্ত সঞ্চালন ভাল হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই হার্টকে অতিরিক্ত সংকোচন এবং প্রসারণ করতে হয়। এই কারণে হৃদয়ের আকারেও বদল আসতে পারে। এই সময় ত্বকে মেলাজ়মা-র পরিমাণ বেড়ে গেলে ত্বকের স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন আসে। একই সমস্যা হতে পারে চুলেও। গবেষকরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় বয়স বাড়ার লক্ষণ কেন ফুটে উঠতে থাকে সেটা জানতে হলে আরও বেশি গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন।