শেষ আপডেট: 20 November 2020 07:27
আর্নেস্টাইন যে একেবারে যৌবনকাল থেকেই শরীরচর্চায় মন দিয়েছিলেন, এমনটাও নয়! ৫৬ বছর বয়সে জীবনের এই নতুন পথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। আর এত অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গিনিসবুকে তুলে ফেলেছেন নিজের নাম। বিশ্বের সবথেকে বয়স্ক বডিবিল্ডার হিসেবে গিনিসবুকে রয়েছে শেফার্ডের নাম
প্রথমদিকে শেফার্ড একা ছিলেন না, তাঁর সঙ্গে তাঁর বোনও ছিলেন। তাঁরা দুই বোনে মিলে একসঙ্গে জিমে যেতে শুরু করেন। কিন্তু তারপরই ব্রেন অ্যানিউরিজমের কারণে আচমকা মারা যান তাঁর বোন। বোনের মারা যাওয়ার ঘটনাটা শেফার্ডকে ভিতর থেকে ভেঙে ফেলে। এই মৃত্যুশোকে তাঁর রক্তচাপ, হতাশা, আশঙ্কা, ভয়পাওয়া এগুলো ভীষণ পরিমাণে বেড়ে যায়। অবশেষ তিনি বুঝতে পারেন এভাবে হেরে গেলে হবে না। তাঁর বোনের স্বপ্ন তাঁকেই সফল করতে হবে।
তাঁর বোন চেয়েছিলেন শেফার্ডকে সবার প্রথমে দেখতে। তাই তিনি বোনের স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য এগিয়ে যেতে শুরু করেন। ৭১ বছর বয়সে শেফার্ড প্রথম শরীরচর্চার প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে অন্যান্য প্রতিযোগীরা তাঁর থেকে অনেক কম বয়সী ছিলেন। কিন্তু এই প্রতিযোগিতাতে তিনি সকলে পেছনে ফেলে জিতে নেন প্রথম হওয়ার খেতাব।
তাঁর এই ফিটনেসের গোপন রহস্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রতিদিন ভোর চারটেয় উঠে তিনি ১০ কিলোমিটার দৌঁড়ান। আর এরপর একটা নির্দিষ্ট পুষ্টিকর ডায়েটের মধ্যে দিয়ে দিনের বাকি সময়টা কাটান। ১০টি স্ক্র্যাম্বলড ডিমের সাদা অংশ, ৫০০ মিলিগ্রাম জল এবং একমুঠো আখরোট দিয়ে সকালের ডায়েট শুরু হয় তাঁর। তারপর দুপুরে ডিম, মুরগীর মাংস, শাকসবজি আর প্রচুর পরিমাণে জল খান। সপ্তাহে চারদিন তিনি প্র্যাকটিস করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, বয়স অনুযায়ী তাঁর দেহে চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে।
যাঁরা সবে সবে জিমে যাওয়া শুরু করেছেন, বা জীবন নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে রয়েছেন তাঁদের কাছে আর্নেস্টাইন এখন একজন জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা।