
শেষ আপডেট: 8 January 2024 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে তথা গোটা বিশ্বে বিখ্যাত কলকাতার দুর্গাপুজো। সম্প্রতি তা হেরিটেজ তকমাও পেয়েছে। তেমনই হুগলি জেলার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোও কিন্তু কম জনপ্রিয় নয়। বস্তুত, কলকাতার দুর্গাপুজোর থেকেও পুরনো চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস। দেশ বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন এখানে পুজো দেখতে। চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো ছাড়াও রয়েছে অনেক পুরনো মন্দির, স্মৃতিসৌধ, ঐতিহ্য, যা এখনও একইভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে সেসবের সন্ধান অনেকেই জানেন না।
শীতকালে বিকেলের দিকে হোক বা একদিনের ট্যুর, সবাই একটু এদিক ওদিক ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। যদি কেউ চন্দননগর যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তাহলে মূলত যান গঙ্গার ঘাট আর চন্দননগর স্ট্র্যান্ড দেখতে। এই জায়গা ছাড়াও এককালের ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরে রয়েছে অনেক ঘোরার জায়গা। কলকাতা থেকে মাত্র ৪৭ কিলোমিটার দূরে এই শহরে গেলে ঘুরে আসতে পারেন ৫০০ বছরের একটি পুরনো মন্দিরে। নাম 'বোড়াইচণ্ডীর মন্দির'। লোকমুখে প্রচলিত, এই চণ্ডী থেকেই নাকি চন্দননগর নামের উৎপত্তি। তবে এ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে।
কেউ বলেন এটি চন্দনকাঠের বড় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল বলে এই জায়গার নাম হয় চন্দননগর। আবার কেউ বলেন এখানে গঙ্গার আকার চন্দ্র অর্থাৎ চাঁদের মতো। তাই প্রথমে এর নাম 'চন্দ্রনগর' এবং পরে 'চন্দননগর' হয়। বাংলা সাহিত্যের বিপ্রদাস পিপলাই রচিত মনসামঙ্গল কাব্যে চন্দননগরের উল্লেখ না থাকলেও উল্লেখ আছে চন্দননগরের অন্তর্গত 'বোড়ো'র। জানা যায় প্রায় ৫০০ বছর ধরে মা বোড়াইচণ্ডীর পুজো হয়ে আসছে এই মন্দিরে। মা দুর্গা রূপেই পূজিত হন তিনি।
কথিত আছে, সিংহলে আটক পিতাকে মুক্ত করার জন্যেই শ্রীমন্ত সওদাগর বোড়াইচণ্ডীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এখানে। তারপর সেখানেই গড়ে উঠেছিল মন্দির। বোড়াইচণ্ডীর মন্দিরে যাঁরা গেছেন বা যাঁরা ওখানকার বাসিন্দা, তাঁরা জানেন মন্দিরের ভিতরে থাকা চতুর্ভুজা মায়ের মূর্তিটি তৈরি নিমকাঠে। এই নিমকাঠের মূর্তি মোড়া অষ্টধাতুর পাত দিয়ে। দেবীর একহাতে রয়েছে শঙ্খ, একহাতে চক্র, একহাতে ত্রিশূল এবং অন্য হাতে পদ্ম। সেবায়েতরা পালা করে করে মায়ের পুজো করেন। এছাড়া মাতৃমন্দিরে ঢোকার ঠিক মুখেই রয়েছে একটি সুন্দর নাটমন্দির।
কীভাবে যাবেন বোড়াইচণ্ডীর মন্দিরে? হাওড়া থেকে ট্রেনে চন্দননগর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার হয়ে পৌঁছতে হবে গন্তব্যে। মন্দির প্রায় সারাক্ষণই খোলা থাকে। তবে একটু বিকেল বিকেল গেলে গঙ্গার হাওয়া উপভোগ করতে করতে ঘুরে দেখতে পারবেন পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দির।