
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 May 2024 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা উত্তরপত্রের সঙ্গে দিতে হবে ১০ লক্ষ টাকা। তাহলেই ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে যাবেন পরীক্ষার্থী। গুজরাতে নিট ইউজি পরীক্ষায় এমনই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।
ডাক্তারি কোর্সে ভর্তির জন্য নিট ইউজি পরীক্ষা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করলে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্নাতক স্তরে এমবিবিএস ডেন্টাল কিংবা এবং আয়ুষ কোর্স পড়ার সুযোগ মেলে। আর গুজরাটে এই প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই এক বড় মাপের দুর্নীতি চক্র সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার গোধরায়। এক স্কুল শিক্ষক সহ মোট তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ছয় জন নিট পরীক্ষার্থীকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাদের উত্তর লিখে দিয়ে পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁরা।
গত রবিবার ৫ মে ছিল নিট ইউজি পরীক্ষা। গোধরার জয় জলরাম স্কুলে এই পরীক্ষার সিট পড়েছিল। অভিযোগ, সেখানকার পদার্থবিদ্যার শিক্ষক তুষার ভাটের সঙ্গে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অর্থের বিনিময়ে উত্তর লিখে দেওয়ার বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছিল। যদিও গোপন সূত্রে পরীক্ষার আগেই এব্যাপারে খবর পান পঞ্চমহলের জেলাশাসক। তাঁর নির্দেশ অনুসারে, পরীক্ষার দিন ওই স্কুলে হানা দেন জেলার অতিরিক্ত কালেক্টর এবং জেলা শিক্ষা অফিসার-সহ একটি তদন্তকারী দল।
স্কুলে গিয়ে তুষার ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তরারীরা। তাঁর মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হয়। তুষার ভাটের ফোন থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর একটি তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় পরীক্ষার্থীদের নামের সঙ্গে তাদের রোল নম্বর এবং পরীক্ষার কেন্দ্রও ছিল। পরশুরাম রায় নামে এই মামলার আরেক অভিযুক্ত তালিকাটি হোয়াটসঅ্যাপ করে পাঠিয়েছিলেন তুষার ভাটকে। এরপর জেরার মুখে, অপরাধ স্বীকার করে নেন ওই শিক্ষক। তিনি জানান, ওই তালিকার ছয়জন পরীক্ষার্থী, তাদের প্রশ্নপত্র সমাধান করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
ইতিমধ্যে তুষার ভাট, পরশুরাম রায় এবং আরিফ ভোরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলটি তুষার ভাটের মোবাইল ফোন, নগদ ৭ লক্ষ টাকা এবং যে গাড়িটি থেকে ওই নগদ উদ্ধার হয়েছিল, সেই গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করে। এই ঘটনার আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই বিষয়ে চলছে তদন্ত।