
শেষ আপডেট: 13 December 2023 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি রাজস্থানের রাজকুমারী। কিন্তু রাজপ্রাসাদের চার দেওয়ালের অবগুণ্ঠনের আড়ালে থাকেননি। বেরিয়ে এসেছেন রাজপথে। রাজস্থানবাসী বলাবলি করেন এই মেয়েই হতে চলেছেন ‘ভবিষ্যতের বসুন্ধরা রাজে’। রাজার বেটি সাধারণ মেয়ে হয়ে জনসাধারণের সাথেই মিশেছেন। তিনি দিয়া কুমারী। বিধায়ক দিয়া রাজস্থানের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী।
জয়পুরের শেষ রাজা দ্বিতীয় মান সিংহের নাতনি দিয়া। এই দ্বিতীয় মান সিংহের তৃতীয় স্ত্রী হলেন গায়ত্রী দেবী। রাজনীতির ময়দানে যাঁর নামও কিছু কম নয়। ১৯৬২ সালে জয়পুরের মহারানি গায়ত্রী দেবী ভোটের লড়াইয়ে সব রেকর্ড ভেঙে দেন। দু’বার স্বতন্ত্র পার্টির টিকিটে লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন।
কোচবিহারের রাজকুমারী ছিলেন গায়ত্রী। রাজপুত রাজা দ্বিতীয় মানসিংহের সঙ্গে বিয়ের পরে জয়পুরের মহারানি হন। সেই সূত্রে দিয়া তাঁর নাতনিও বটে। বাঙালি রাজপরিবারের সঙ্গে দিয়ারও যোগাযোগ রয়েছে। গায়ত্রী দেবী রাজার অন্দরমহলের রানি হয়ে না থেকে ভোটের ময়দানে লড়েছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করেছেন দিয়াও। রাজপথে নেমে প্রজাদের ভোট চেয়ে বেরিয়েছেন।
কথায় বলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলুখাগড়াদের প্রাণ যায়। কিন্তু এখন রাজা-রানিরা আর রাজমহল আলো করে থাকেন না। তাঁরা ভোটযুদ্ধেও লড়াই করেন। গরিব-প্রান্তিক মানুষদের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে ভোট চান। রাজপুত রাজা দ্বিতীয় মান সিংহের প্রথম পক্ষের ছেলে জয়পুরের শেষ মহারাজা ভবানী সিংয়ের মেয়ে দিয়া কুমারী। তিনি অবশ্য কখনওই নিজেকে রাজকুমারী হিসেবে পরিচয় দেননি। ভোটের ময়দানে তাঁর পরিচয় ছিল একজন বীর সেনা অফিসারের কন্যা হিসেবে। প্যারাশুট রেজিমেন্টের মতো বিশেষ বাহিনীর শীর্ষ পদে ছিলেন ভবানী সিং।
লন্ডনে ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক করে দর্শন নিয়ে পিএইচডি করেন। ২০১৩ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দিয়া। তার পর থেকে তিনটি ভোটে দাঁড়িয়ে তিনটিতেই জিতেছেন। ২০১৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মাধোপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন দিয়া। সেখানেও জিতেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে রাজসমন্দ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটে জিতেছিলেন।
নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে বার বার সরব হয়েছেন দিয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ব্যঘ্র সংরক্ষণের সদস্যও হয়েছিলেন। জয়পুরে মেয়েদের জন্য দুটো স্কুলও খুলেছেন। জয়পুর-মাউন্ট আবুতে তিনটি হেরিটেজ হোটেলও আছে তাঁর। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত দিয়া। সেখানে তাঁকে টেক্কা দিচ্ছেন আর এক রাজকুমারী তথা রাজবধূ বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।