
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 1 July 2024 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকেই দেশে নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন কার্যকর হয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করলেন, এতদিনে দেশের বিচারব্যবস্থায় ভারতীয় আত্মার যোগদান হল। এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার, যা আগে ভাবা হয়নি। এই প্রসঙ্গে গণপিটুনির ধারার কথা উল্লেখ করেছেন অমিত শাহ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীনতার ৭৭ বছর পর এই প্রথম দেশের আইন পুরোপুরি স্বদেশি হল। ভারতীয় আত্মার যোগদান হয়েছে দেশের সংবিধানে। এমন কিছু ধারা নতুন এই ফৌজদারি আইনে যুক্ত করা হয়েছে তাতে অনেক গোষ্ঠী উপকৃত হবে। গণপ্রহারের ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এতদিন গণপিটুনি নিয়ে আলাদা কোনও ধারা ছিল না। কিন্তু এখন তা যুক্ত করা হয়েছে।
১ জুলাই থেকে যে নতুন আইন কার্যকর হল তাতে ১৮৬০ সালে তৈরি 'ইন্ডিয়ান পেনাল কোড' বা ভারতীয় দণ্ডবিধি বদলে হয়েছে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা', ফৌজদারি দণ্ডবিধি বদলে হয়েছে 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা' এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের বদলে হয়েছে 'ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম'। এই নতুন আইনে একদিকে বাদ পড়েছে ১৯টি পুরনো আইন আর যুক্ত হয়েছে ২০টি নয়া বিধি। নতুন ধারাগুলির মধ্যে গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
এতদিন পর্যন্ত গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ খুন বা খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করত। কিন্তু নতুন আইনে গণপিটুনির জন্য আলাদা ধারাই রাখা হয়েছে। অমিত শাহের কথায়, শাস্তি নয় মূলত ন্যায়বিচারকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে নতুন এই ফৌজদারি আইনে।
এই নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে বহুবার বিরোধিতা করেছিল বিরোধীরা। গত বছর যে সময়ে এই তিনটি বিল পাস করানো হয়েছিল সংসদে, সেই সময় উভয় কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় তুমুল হইচই সৃষ্টি হয়। ওই ইস্যুতেই দুই কক্ষ মিলিয়ে ১৪৬ জন সাংসদকে সেই সময় সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই আইনে স্থগিতাদেশ চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। মমতার বক্তব্য ছিল, এই তিন বিল ভারতের সামগ্রিক নীতির উপর শুধু প্রভাব ফেলবে না, ভারতের জনজীবনের উপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অবধারিতভাবেই পড়বে। মমতার স্পষ্ট দাবি, এই আইন জন বিরোধী।