
মনমোহন সিং
শেষ আপডেট: 27 December 2024 23:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির যমুনা তীরে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একটি স্মৃতিসৌধ গড়ার আর্জি জানিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের তরফে রাজঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আর্জিও জানান হয়। কিন্তু অকালি দলের দাবিতে শোরগোল পড়েছে। তাঁরা বলেছে, কেন্দ্র নাকি 'না' বলে দিয়েছে এই প্রস্তাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট করেছেন শিরোমণি অকালি দলের নেতা সুখবীর সিংহ বাদল। দাবি করেছেন, মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পর্কিত এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণের যে আর্জি ছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছে কেন্দ্র। আপাতত ঠিক হয়েছে নিগমবোধ ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এই নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। তাঁর কথায়, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। তিনি ভেবেই পাচ্ছেন না, এত বড় একজন রাষ্ট্রনেতার বিষয়ে এমন আচরণ কীভাবে করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
Shocking and unbelievable! It is condemnable in the extreme that Union Govt has declined the request of Dr Manmohan Singh Ji’s family for performing the funeral and last rites of the highly distinguished leader at a place where an appropriate and historic memorial may be built to… pic.twitter.com/5ejdKV7XJD
— Sukhbir Singh Badal (@officeofssbadal) December 27, 2024
কংগ্রেসের স্মৃতিসৌধের আর্জি শোনার পর অবশ্য বিজেপির তরফে আগেই কটাক্ষ করা হয়েছিল। তাঁরা বলেছিল, এই সেই কংগ্রেস যারা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের মৃত্যুতে যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি। এমনকী তাঁর জন্য কোনও স্থায়ী স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করা হয়নি। তখন প্রধানমন্ত্রী পদেই ছিলেন খোদ মনমোহন সিং। এখন তাঁরাই একই রকম আবেদন করছেন। এরপরই অকালি দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার কংগ্রেসের আর্জিতে সাড়া দিচ্ছে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই আবেদন নিয়ে চিঠিও দিয়েছে তাঁরা। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও উত্তর আসেনি।
শুক্রবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানান। তারপরেই দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা ও কেসি বেণুগোপাল একই দাবি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে।
প্রসঙ্গত, মনমোহনের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারের জমানাতেই রাওয়ের স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়নি। ২০১৩ সালে স্থানাভাবে তা করা সম্ভব নয়, বলে জানিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। ইউপিএ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, একটি সাধারণ স্মৃতিসৌধের এলাকা গড়ে তোলা হবে। রাজঘাটের পাশে সেই জায়গাকে রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্থল নাম দেওয়া হবে। তাই সেবার অনেকে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কংগ্রেস প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাওকে মর্যাদা দেয়নি।