
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে সাইবার ক্রাইমের ঘটনা লাগাম ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবার বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে হল প্রতারণা। তিনি খোয়ালেন ১১ কোটি টাকা। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' করে রেখেছিল প্রতারকরা।
কয়েকটি ফোন, ভিডিও কলের মাধ্যমেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন আমজনতা। কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ, কোটি টাকা পর্যন্ত খোয়া যাচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে এই ধরনের ঘটনা পরপর ঘটেছে। আর বেঙ্গালুরুর এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রতারণা করা হয়েছে।
গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩৯ বছরের এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশ সূত্রের খবর, পুলিশ সেজেই তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে। কোনও এক ব্যবসায়ী তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ৬ কোটি টাকা রেখেছেন, যা অবৈধ টাকা। এছাড়া আরও কিছু অভিযোগ করা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
ওই যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১১ নভেম্বর তাঁর কাছে ট্রাই-এর নাম করে ফোন এসেছিল। বলা হয়, তাঁর যে ফোন নম্বরের সঙ্গে আধার কার্ডের যোগ রয়েছে তা দিয়েই অনেককে নাকি অপ্রীতিকর মেসেজ পাঠানো হয়েছে। আর তার জন্য মুম্বইয়ের কোলবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ফোনের পর পুলিশ হয়ে কেউ ফোন করেছিলেন তাঁকে। তখন আর্থিক প্রতারণার কথা বলা হয়।
এরপর মুম্বই পুলিশ সেজে ওই যুবককে স্কাইপে ভিডিও কল করেন এক প্রতারক। কার্যত ধমকি দিয়ে বলা হয়, তাঁদের সঙ্গে এই ভার্চুয়াল তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে সরাসরি গ্রেফতার করা হবে। শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবারকেও ছাড়া হবে না। একই সঙ্গে আরবিআই-এর একটি ভুয়ো নথি দেখিয়ে তাঁকে বলা হয়, এই মামলা থেকে বাঁচতে তাঁকে মোটা টাকা ট্রান্সফার করতে হবে। তারা দেখতে চান, যুবকের পাঠানো টাকা বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে কিনা।
এই কথা শুনেই ১১.৮ কোটি টাকা প্রতারকদের দেওয়া একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু এরপরও টাকার দাবি থামছিল না। তখনই যুবক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন এবং থানায় অভিযোগ জানান।