Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অপরিচিতকেও চিনিয়ে দেবে মেটার ‘স্মার্ট গ্লাস’! অপরাধ বাড়তে পারে, বিপদ দেখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলিপ্রথম পর্বে দেখা হবে না রাম-রাবণের! ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের মন ভেঙে দিলেন ‘টক্সিক’ যশনববর্ষ উদযাপনের মাঝেও মনখারাপ! দিনের শুরুটা কীভাবে কাটালেন ঋতুপর্ণা?গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল?

হাছানের সফরে বিপুল প্রত্যাশা ঢাকার, হাসিনার বিদেশ মন্ত্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লিও

নতুন মন্ত্রিসভায় হাসিনা আগের সরকারের চিন পন্থী বলে পরিচিত আব্দুল মোমেনকে সরিয়ে হাছানকে বিদেশ মন্ত্রী করেছেন।

হাছানের সফরে বিপুল প্রত্যাশা ঢাকার, হাসিনার বিদেশ মন্ত্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লিও

শেষ আপডেট: 7 February 2024 10:40

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মামুদের তিনদিনের ভারত সফর। একটু আগে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে এই সফর। 

নতুন মন্ত্রিসভায় হাসিনা আগের সরকারের চিনপন্থী বলে পরিচিত আব্দুল মোমেনকে সরিয়ে হাছানকে বিদেশ মন্ত্রী করেছেন। আগের মন্ত্রিসভায় তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কাজের অভিজ্ঞতা ভাল। দিল্লির প্রশাসনিক মহলের অনেকের সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। 

গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিদেশ সফরের জন্য প্রথমে ভারতকে বেছে নেন। দুই বিদেশ মন্ত্রী ইতিমধ্যেই উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় এক সম্মেলনে যোগদানের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই হাছানকে ব্যক্তিগতভাবেও ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান জয়শঙ্কর। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দুনিয়ার কঠোর অবস্থানের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকায় কৃতজ্ঞ ঢাকা। হাছানের পয়লা বিদেশ সফরে ভারতকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নয়া দিল্লির ইতিবাচক ভূমিকা গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, হাছানের এই সফরে কোনও চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা কম। তবে দ্বিপাক্ষিক সব বিষয় নিয়ে। কথা হবে দু-দেশের। এই সফরে ঢাকার যেমন বিপুল প্রত্যাশা আছে, তেমনই সে দেশের বিদেশ মন্ত্রীর সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়া দিল্লিও। সাম্প্রতিক অতীতে যার নজির কম।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দু দফায় বৈঠক করার কথা।  বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও হাছানের দেখা করার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি। 

ঢাকার সরকারি সূত্রের খবর, কয়েকটি বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাসের প্রত্যাশা নিয়ে এই সফরে এসেছেন বাংলাদেশের নতুন বিদেশমন্ত্রী। তার মধ্যে অন্যতম হল, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর ধারাবাহিক জোগান। সামনেই রমজান মাস শুরু হচ্ছে। এই সময় প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর বাড়তি জোগান প্রত্যাশা করে ঢাকা। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠকে এই ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। আগের মন্ত্রিসভার খাদ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী নির্বাচনের আগে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে এসে পীযুষ গোয়ালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে গিয়েছিলেন। 

নির্বাচনের বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভারত সরকার চাল, চিনি, পেঁয়াজ-সহ বেশ কিছু পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ঢাকা চায়, বাংলাদেশকে বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হোক।

 সে দেশে এখন জিনিসপত্রের দামই সাধারণ মানুষ এবং সরকারের সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথার কারণ। নির্বাচনের পর সে দেশের সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। সেখানে সরকার পক্ষই ৯০ ভাগ হলেও জিনিসপত্রের দামের বিষয়টি ঘুরে ফিরে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘন ঘন বৈঠক করেছেন মন্ত্রী-সচিবদের সঙ্গে। 

এরই মধ্যে বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলেছে মায়ানমারের পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১৫ লাখ মানুষ বাংলাদেশের আশ্রয়ে আছে। নতুন করে আরও কয়েক লাখ মানুষ ঢুকে পড়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হয়েছে। 

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, মায়ানমারের পরিস্থিতি নিয়েও দুই বিদেশমন্ত্রীর কথা হবে। এই বিষয়ে অজিত দোভালের সঙ্গেও আলোচনা করবেন হাছান মামুদ। মায়ানমারে সেনা ও বিদ্রোহীদের লড়াই প্রায় গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক জনজীবন ভেঙে পড়ায় তুমুল খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে সেনা চালিত দেশটিতে। প্রাণ বাঁচাতে মায়ানমারের মানুষ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে জড়ো হয়েছে। দু-দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের কোনওরকমে ঠেকিয়ে রেখেছে। আগে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর তৎপরতার মুখে অশান্ত হয়ে উঠেছে মায়ানমার। বাংলাদেশ নতুন করে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। করোনা পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মায়ানমার সমস্যা নিয়ে ভারতকে পাশে চায়। 

এদিকে, বাংলাদেশ যেমন তাদের বিদেশ মন্ত্রীর সফর থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করছে, তেমনই হাছানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতও। তাঁর সফরের নির্ঘণ্টেই সেই বার্তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়েই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে। 

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের উপর চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা বিবেচনায় রেখেই নয়াদিল্লি যাবতীয় পদক্ষেপ করছে। শেখ হাসিনার দেশে একাধিক পরিকাঠামোয় চিন বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব তৈরির লক্ষ্যে বেজিং তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে উন্মুখ হয়ে উঠেছে, যা ভারতের পছন্দ নয়। তিস্তার জল নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বোঝাপড়া না হওয়ার সুযোগ নিয়ে চিন ওই প্রকল্পে ঢুকে পড়তে চাইছে।
তিস্তার জল বিনিময় চুক্তি এক দশকের বেশি আটকে আছে। এই অবস্থায় বর্ষার জল ধরে রাখতে বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকায় বিশাল জলাধার তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে চিন। 

তিস্তা মহা পরিকল্পনা নামে বাংলাদেশের সেচ দফতরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ণে চিন আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। হাসিনা সরকার এখনও চিনের প্রস্তাবে সায় না দিলেও নয়াদিল্লি এই ব্যাপারে চিন্তিত। এই ব্যাপারে ভারতের মনোভাব হাছান মামুদের কাছে তুলে ধরবেন নয়াদিল্লির কর্তারা। 

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারত ও জাপানের যৌথ বিনিয়োগের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। 

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রীর সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আরও একটি কারণ, বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়া আর কোনও প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একশো ভাগ স্বস্তিদায়ক নয়। হালে মালদ্বীপ সরকারের ভূমিকায় নয়াদিল্লির কর্তারা বুঝেছেন ভারতকে চাপে রাখতে চিন কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রভাব বিস্তার তৈরি করেছে। মলদ্বীপের চিনপন্থী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর দেশ থেকে ভারতীয় সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। সম্প্রতি মালদ্বীপ জানিয়েছে, ১০ মে’র মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ভারতকে। 

আবার নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা না থাকলেও ওই দেশগুলিতে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নয়াদিল্লিকে চিন্তায় রেখেছে।

উল্টো দিকে, বিগত পনেরো বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতি অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে। দুই দেশই নিজেদের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে দিচ্ছে। ফলে বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে। দিন সাতেক আগে বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পরিকাঠামোর অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে বলে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, এর ফলে ভারতও উপকৃত হচ্ছে।


```