তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন গুপ্তচরবৃত্তির মামলা নয়, বরং পাকিস্তান-সমর্থিত একটি বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সেই চক্রের আরও সদস্য ও সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

সুমিত কুমার, অসমের চাবুয়া এয়ার ফোর্স স্টেশনে মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ
শেষ আপডেট: 23 March 2026 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটি (Indian Air Force) থেকেই সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার এক কর্মী (Defence leak arrest)। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় সামনে এসেছে গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি বৃহৎ গুপ্তচরচক্রের (spy network India) হদিশ।
রাজস্থান ইন্টেলিজেন্সের অভিযানে এই গ্রেফতারি হয়। কয়েক মাস ধরে চলা তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে আর এক সন্দেহভাজনের আটক দিয়ে যার সূত্রপাত হয়েছিল (defence data leak Pakistan India spy network)।
রাজস্থানের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ইন্টেলিজেন্স) জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জয়সলমেরের বাসিন্দা ঝাবারা রামকে প্রথমে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি আর এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসূত্রের কথা জানান, যিনি নিয়মিত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা পৌঁছন সুমিত কুমারের কাছে।
অসমে এয়ার ফোর্স স্টেশনে কর্মরত অভিযুক্ত
৩৬ বছর বয়সি সুমিত কুমার, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা। তিনি অসমের ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া এয়ার ফোর্স স্টেশনে মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিজের কর্মস্থলের সুযোগ নিয়ে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনা সম্পর্কিত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাতেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই তথ্য আদানপ্রদান হত বলে জানা গিয়েছে।
যৌথ অভিযানে গ্রেফতার
রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স এবং এয়ার ফোর্স ইন্টেলিজেন্সের যৌথ অভিযানে চাবুয়া থেকেই সুমিতকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকেই তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করতেন।
ফাঁস প্রতিরক্ষা ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, সুমিত কুমার চাবুয়া ছাড়াও বিকানেরের এয়ার ফোর্স স্টেশন নাল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ফাঁস করেছেন।
এর মধ্যে ছিল যুদ্ধবিমানের অবস্থান, মিসাইল সিস্টেমের অবস্থান এবং অফিসার ও কর্মী সংক্রান্ত গোপন তথ্যও। এছাড়া, নিজের নামে নেওয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরিতেও সাহায্য করেছিলেন তিনি।
অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা
২২ মার্চ সুমিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। জয়পুরের বিশেষ পুলিশ স্টেশনে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন গুপ্তচরবৃত্তির মামলা নয়, বরং পাকিস্তান-সমর্থিত একটি বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সেই চক্রের আরও সদস্য ও সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভেতর থেকেই তথ্য ফাঁসের এই অভিযোগ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তদন্ত যত এগোবে, এই চক্রের বিস্তার ততই স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।